শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শীত-আনন্দ 

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ১০:২৯

পৌষ মাসে পৌষমেলার গ্রামীণ আনন্দ উপভোগ্য এক অনন্য সংস্কৃতি। খেজুরের রস ও রসের হরেক রকম পিঠা-পায়েস আমাদের রসনাকে তৃপ্ত করে। ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে গ্রামীণ জনপদ। কুয়াশা ঘেরা ফসলের মাঠ মনোহরণি। আমরা যারা শহরে থাকি তারা চেষ্টা করি গ্রামে গিয়ে শীতের আবহ উপভোগ করতে। নাগরিকজীবনে শীতের আমেজ গ্রামের মতো উপভোগ্য নয়। তবু চেষ্টা করি শীতের পিঠা-পুলি তৈরি করে ‘শীত আনন্দ’ উপভোগ করতে।

কিন্তু ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের শীত-আনন্দ। কারণ শীতের পিঠা উপকরণের দুষ্প্রাপ্যতা। প্রথমত, খেজুরের রসের স্বল্পতা। দ্বিতীয়ত, নারিকেলের স্বল্পতা দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। তৃতীয়ত, খেজুরের রস কম উত্পাদন হওয়ায় খাঁটি খেজুরের গুড় হয়ে উঠেছে দুষ্প্রাপ্য। অথচ এসব উপকরণ জোগান দেয় খেজুরগাছ ও নারিকেলগাছ, যা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে। আমাদের জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নারিকেল ও খেজুরের চারা উত্পাদনের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়ার সময় এসেছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত মাটি নারিকেলগাছের জন্য বেশ উপযোগী। খেজুরগাছ দেশের সব অঞ্চলে কম-বেশি হয়। উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধে প্রচুর নারিকেলের চারা রোপণ করা যায়। তাছাড়া পরিত্যক্ত খাসভূমি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি তো রয়েছেই। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। 

ইত্তেফাক/কেকে