অর্থনীতির প্রধান ঝুঁকি জীবিকা ও কর্মসংস্থানে 

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৫১

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রধান ঝুঁকি হচ্ছে জীবিকা ও কর্মসংস্থানে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদন ২০২২-এ এ তথ্য উঠে এসেছে। এবার ১৭তম বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদন প্রকাশ করল ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে গত মঙ্গলবার ভাচু‌র্য়াল এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনে সংস্থাটি শতাধিক দেশের প্রধান চারটি ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে। অর্থনৈতিক ঝুঁকির পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক-পরিবেশগত ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। কর্মসংস্থান ও জীবিকার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে দেশের কৌশলগত সম্পদের ভূরাজনীতিকীকরণ। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অন্য যেসব ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো হলো—পরিবেশ, সাইবার দুর্বলতা, ডিজিটাল অসমতা ইত্যাদি।

গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর বৈশ্বিক ঝুঁকিসংক্রান্ত ধারণা জরিপ পরিচালনা করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্বের প্রধান উদ্বেগ জলবায়ুর ঝুঁকি। স্বল্প মেয়াদে উদ্বেগগুলোর মধ্যে রয়েছে সামাজিক বিভেদ, জীবিকার সংকট এবং মানসিক স্বাস্হে্যর অবনতি। এসব ঝুঁকি করোনার কারণে বেড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার স্হিতিশীল হবে না এবং আগামী তিন বছর এ ধরনের অসম পুনরুদ্ধার বজায় থাকতে পারে। উত্তরদাতাদের ১০ জনের মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন, অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। উত্তরদাতাদের বেশির ভাগই আগামী পাঁচ বছরের জন্য সামাজিক ও পরিবেশের ঝুঁকিকেই প্রধান মনে করছেন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যারোলিনা ক্লিন্ট বলেন, স্বাস্হ্য ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাজিক বিভাজন প্রকট করছে। এটি উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। কেননা, করোনার প্রভাব থেকে বের হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং একটি বহুপক্ষীয় সমন্বিত উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

প্রতিবেদনে খারাপ আবহাওয়া, জীবিকার সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যর্থতা, সংক্রামক ব্যাধি, সামাজিক সংহতির ক্ষয়, মানসিক স্বাস্হে্যর অবনতি, সাইবার নিরাপত্তায় ব্যর্থতা, ঋণের সংকট, ডিজিটাল বৈষম্য, সম্পদের অস্বাভাবিক মূল্যে ধস, অনিচ্ছাকৃত অভিবাসনসহ মোট ৩৭টি ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভাপতি বোর্হে বেন্দে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিয়া জাহিদি প্রমুখ অংশ নেন। ২০২০ সালের বিশ্ব অর্থনীতির সংকোচন হয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ধারণা করছে, ২০২১ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। আর ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়াবে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারি না এলে বিশ্ব অর্থনীতি যেখানে থাকত, মহামারির প্রভাবে ২০২৪ সালে বিশ্ব অর্থনীতি তার তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হবে।

মহামারির শুরু থেকেই সরবরাহ-সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সালের তুলনায় পণ্যমূল্য ৩০ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানির সংকট নিয়ে ইউরোপ, রাশিয়া ও চীনের দ্বন্দ্বের কারণে পরিস্হিতির আরো অবনতি হতে পারে। তবে এখন সারা বিশ্বে যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে, তার প্রধান কারণ সরবরাহ-সংকট। অর্থাত্, এই মূল্যস্ফীতি চাহিদাজনিত নয়, বরং সরবরাহজনিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ-সংকট ২০২২ সালেও চলবে। মহামারির কারণে অধিকাংশ দেশেরই রাজস্ব আয় কমেছে। উন্নত দেশগুলো অনেক প্রণোদনা দিয়েছে। ২০২০ সালে বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণ ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে জিডিপির ৯৭ শতাংশে উঠেছে। এতে ডলারের বিপরীতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মুদ্রার অবনমন হতে পারে।

ইত্তেফাক/কেকে