বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

 গ্যাস-সংকটে ঠিক রাখা যাচ্ছে না পণ্যের মান: বিটিএমএ সভাপতি

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০১:১৫

শিল্পকারখানায় গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন ইত্তেফাককে বলেন, গ্যাস-সংকট এখন তীব্রতর হয়েছে। এতে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ঠিক রাখা যাচ্ছে না। অথচ কয়েক দফা গ্যাসের দামও বাড়িয়েছে সরকার। বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।

অভ্যন্তরীণভাবে গ্যাসের সংকট, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তুলার সরবরাহজনিত সংকটে বস্ত্র খাতে এক কঠিন অবস্থা। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার প্রাপ্যতা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। এমনকি এলসি খোলার পরও মাসের পর মাস চলে যাচ্ছে, অথচ তুলা আসছে না। তুলার প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ উৎপাদন কম দেখানো, কন্টেইনার-সংকট, জাহাজ-সংকট এবং সংকটের কারণে জাহাজের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি। ফলে আমদানিমূল্য বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে নিরসনে সরকারের কাছ থেকে কার্যকর কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, গত দুই বছর ধরে কোভিডের কারণে আমরা সীমাহীন সংকটে ছিলাম। এখন করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সুতার মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া গত্যন্তর নেই। সবচেয়ে বড় কথা তুলা সময়মতো আসছে না। সমুদ্রগামী জাহাজ বাংলাদেশি পণ্য আনা-নেওয়ায় খুব কমই আগ্রহ দেখাচ্ছে। কারণ, ফিডার ভেসেলের সংখ্যা কম হওয়ায় পণ্য খালাসে বেশি সময় লাগছে। যদিও বেশি সময়ের জন্য দেওয়া চার্জও আমদানিকৃত পণ্যের সঙ্গে যোগ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে উত্পাদিত পণ্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। ভারতীয় তুলা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২০ সেন্ট অতিরিক্ত চার্জ করছে। সে দেশে তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অপরাপর দেশ থেকেও তুলা আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সেখানেও বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। ফলে, সুতার উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। পরিবহনজনিত জটিলতা দূর করতে না পারলে মার্চের দিকে তুলার সংকট তীব্র হতে পারে। সংকট মোকাবিলায় কৃত্রিম তন্তু আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণেরও দাবি জানান তিনি। 

মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, রিসাইকেল ফেব্রিক আমদানির সুযোগ দিলেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকবে। কারণ, বিশ্বজুড়ে এখন কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার বাড়ছে। সুতার মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসাবে যে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিটিএমএ মনে করছে, তারমধ্যে রয়েছে- জাহাজ ভাড়া তথা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, কনটেইনারের ভাড়া বৃদ্ধি, কিছু শিপিং লাইনের বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনে অনাগ্রহ, সবগুলো কারখানা এখন চালু থাকায় ডিমান্ড প্যানিক, কনটেইনার খালাসে ১৫ দিন লাগা, বন্দরে আসতে ছয় থেকে আট মাস লাগায় ব্যাংক সুদসহ অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি। এ অস্থায় বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে নীতিসহায়তা ঘোষণা, ডেনিমকে বিশেষ খাত বিবেচনায় ইনসেনটিভ প্রদান আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বিটিএমএ সভাপতি। 

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা