বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

লোক দেখানো আমল আর নয়

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:০০

মহান আল্লাহ মানুষ বানিয়েছেন তার ইবাদতের উদ্দেশ্যে। তাকে খুশি করার নিমিত্তে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি মানব-দানবকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার ইবাদতের জন্য। (যারিয়াত:৫৬) এই ইবাদত, আরাধনা হতে হবে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে। কেননা তিনি ছাড়া আর কেউ ইবাদতের উদ্দিষ্ট হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। কালেমা তায়্যিব্বা মর্মার্থও এটা। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তোমরা একনিষ্ঠ মনে আল্লাহকে ডাকো যদিও কাফেররা সেটা অপছন্দ করে। (গাফির :১৪)

রিয়া বা লোক দেখানো আমলের অনেক ক্ষতি রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ১. রিয়া তথা লৌকিকতাকে কোরআনে মুনাফিকদের গুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা করে আর আল্লাহও তাদের সমুচিত জবাব দেন। যখন ওরা নামাজে দাঁড়ায় তো অলসভাবে দাঁড়ায়। এতটুকু করে মানুষকে দেখানোর জন্য। আর তারা খুব কমই আল্লাহকে স্মরণ রাখে। (নিসা :১৪২) আর মুনাফিকরা হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরের অধিবাসী।

২. লৌকিকতার কারণে আমলের সওয়াব পুরোটা নষ্ট হয়ে যায়। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে ইমানদারগণ! তোমরা দানগ্রহীতাকে খোটা মেরে কষ্ট দিয়ে লোক দেখানো দানশীলদের মতো নিজেদের দানের সওয়াব নষ্ট করে দিয়ো না। (বাকারা :২৬৪) ৩. লোক দেখানো আমলকে হাদিসে শিরকতুল্য গণ্য করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষকে দেখাতে নামাজ পড়ল অথবা রোজা রাখল কিংবা দানসদকা করল সে মূলত শিরক করল। (তারগিব তারহিব, ১/৫১)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের ব্যাপারে ছোট শিরকে লিপ্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ভয় করছি। সাহাবায়ে কেরাম জিগ্যেস করলেন, ছোট শিরক কী? উত্তরে বললেন সেটা হলো, রিয়া। (শরহু কিতাবিত তাওহিদ লিবনি বায, হা. নম্বর ৫৯)

৪. লৌকিকতাপূর্ণ আমলকারী ধ্বংস হবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যারা নামাজে অমনোযোগী থাকে এবং লোক দেখাতে নামাজ পড়ে তাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য। (মাউন :৪-৬) জাহান্নামেও প্রথম নিক্ষেপিত হবে এই লোক দেখানো আমলকারীরা।

তাছাড়া এ রিয়ার কারণে ভিতরে অহংকার তৈরি হয়। কারণ, মানুষকে দেখিয়ে আমল করার পেছনে অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে তাদের কাছে নিজেকে বড় করে তোলা। সবাই যেন তাকে পরহেজগার, মুত্তাকি মনে করে। এভাবে তার মধ্যে অহংকার সৃষ্টি হয়। আর অহংকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হাদিসে এসেছে, যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (আবু দাউদ, হা. নম্বর ৪০৯১)

রিয়া থেকে বাঁচার উপায় : ক. মৃত্যুর কথা বেশি স্মরণ করা। দুনিয়ার নশ্বরতাকে সব সময় মনে জাগ্রত রাখা। কেননা যশ, খ্যাতির মোহই মূলত রিয়া তথা লৌকিকতায় উদ্বুদ্ধ করে। এই মোহ দূর করতে পারলে রিয়া দূর করা সম্ভব। দুনিয়ার যশ, খ্যাতির মোহ ছাড়তে পারলেই এটা দূর হবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, দুনিয়ার মোহ সব পাপের উৎস। (মুখতাসারারুল মাকাসিদ, ৩৫৯)

সাধারণ মানুষ তো বটেই আলেমরা পর্যন্ত এ ব্যাধিতে আক্রান্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদের রিয়ামুক্ত আমলের তাওফিক দান করুন। আমিন।

মুফতি শরিফুল ইসলাম নাঈম, উস্তাদ, অ্যারাবিক মডেল মাদ্রাসা, উত্তরা ঢাকা

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আবিষ্কৃত হলো রসুলের (স.) মদিনায় হিজরতের যাত্রাপথ

সফলতা বলতে আমরা কী বুঝি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ধর্মের সীমায় আনন্দ-বিনোদন

 ইসলামে দান-সদকার তাত্পর্য