মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কবিতা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:৫৪

ডব্লিউ. এইচ. অডেন-এর দুটি কবিতা 
ভাষান্তর: ফিরোজ আহমদ কামাল 

বন্ধুত্ব 

বর্ষণমুখর একটা দিনের জন্য পৃথিবী কৃতজ্ঞ হয়েছিল 
আমি হইনি, নির্বাক ক্লান্ত ছিলাম বন্ধুত্বের ভাবনায় 
যা ছিল কাঙ্ক্ষিত আবার তা হারিয়ে গেল 
আর বহু অন্বিষ্ট সুখ সে তো ধরা দিল না। 

গাছ বা পাথরের অধিক ছিল না তা আমার কাছে
যতক্ষণ না ঝোপের বেড়া ভেঙে পড়ে, পথে যেতে দেখি
চকমকি পাথর কুড়াচ্ছেন এক বৃদ্ধ, সিক্ত আর একা, 
অবশেষে বৃষ্টির একটা অর্থ জোগালেন তিনি। 

তখন বৃষ্টি আমার সঙ্গে কথা বলল, তবে বেশিক্ষণ নয় 
আমার আর বন্ধুর মধ্যে প্রসঙ্গগুলো বলছিল। 
থাশ পাখির গানের মতো শুনেছি আর ভুলে গেছি। 
এক ঘণ্টার মধ্যে যার সৃজন হয়তো রেশ আছে এখনো। 

ভোরবেলার স্নান

কী? এখনো তুমি বিছানায় ঘুমাচ্ছ 
আকাশটা কী রকম ঝকঝকে নীল 
আর মাথার ওপর বর্ণালি সূর্যালাকের ছোপ 
তোমার ওপর ঢেলে দিচ্ছে তার নেচে যাওয়া রশ্মি 

বনভূমিতে কোন কোন রঙের মেলা বসেছে 
সবুজ বর্ণচ্ছটা আমি গুনতে পারি না; আর পাখিরা 
ঐ অরণ্যে ব্যস্ত আছে কুজনে। 
কী সুখে ভরপুর তারা প্রকাশ্য নয় ভাষায় 

হ্যালো! বেশ তুমিও এখানে আছ দেখছি 
ওহ তুমি কী দেখলে; ওই চমত্কার ঝাঁপটা— 
প্রভু! ওখানে সূর্য কেমন দীপ্তিময় 
তুমি আস্ত নির্বোধ! ওই তোয়ালেটা আমার 

ঘণ্টাটা তার স্বাগতধ্বনি ছড়িয়ে দিচ্ছে 
বুঝতে পারি খাবার পেতে আরো দশ মিনিট 
এই জগত্ মাঝে মাঝে খুব বেশি ভালো 
তোমার আমার মতো বোকারামের জন্য। 

(ষোলো থেকে আঠারো বছর বয়সের মধ্যে ইংরেজি কাব্যজগতের প্রধানতম কবি ডব্লিউ. এইচ. অডেন বেশ কয়েকটি কবিতা রচনা করেন। পরবর্তী সময়ে সেগুলো অডেন-এর ‘জুভিনাইলিয়া: পোয়েমস, ১৯২২-১৯২৮’ নামে ক্যাথরিন বাকনেল-এর সম্পাদনায় ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রিন্সটন প্রকাশনী থেকে বের হয়। সেখান থেকে দুটি কবিতার অনুবাদ

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রস 

পরম্পরা 

বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্রের একটি অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ

তামাশা 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কালো সূর্য

থাই মহাকাব্য রামাকীইন-কথা

পথের শেষ কোথায়? ঘৃণার শেষ কোথায়?

বাংলাদেশপ্রেমিক একজন কবি