শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে হয়রানি কমেছে’

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:১৭

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশে যে কয়টি প্রতিষ্ঠান দিন-রাত পরিশ্রম করে জনগনের স্বাস্থ্য সেবার মান অক্ষুন্ন ও নিরবিচ্ছিন্ন রেখেছেন সেগুলোর মধ্যে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর।

কোভিড-১৯ শুরু থেকে সরকারি হাসপাতালে নিয়োজিত সব নার্সদের ছুটি বাতিল করে অদ্যবদি নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে নার্সদের ঘাটতি পূরণের জন্য প্রায় ৩৩ হাজারেরও বেশি নার্স ইতিমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অদ্যবদি ১০ হাজার নার্সের পদ সৃজনসহ ৫ হাজার ৭৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ এবং শূন্যপদসহ আরও ৮ হাজার ২৮৮ জন নার্সের পদায়ন সম্পন্ন করেছেন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার মিডওয়াইফের পদ সৃজন ও ১ হাজার ৪০১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। 

পেশাগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ৩ হাজার নার্সকে ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ এবং ৮০০ নার্স প্রিভেনশন এন্ড কন্ট্রোল এর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে অপারেশনাল প্লানের অধীনে আইসিইউ, আইপিসি, পেডিয়াট্রিক নার্সিং, জেরিয়াট্রিক নার্সিং, ফাউন্ডেশন, ইংরেজি ভাষা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ সারাদেশব্যাপী চলমান। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নার্সিং কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের আওতাধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি বলেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে সারা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অবস্থা যখন নাজুক সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক দিক-নির্দেশনায় আমরা সব বাধা জয় করতে সক্ষম হয়েছি। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। আমাদের নার্স ও মিডওয়াইফগণ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সেবায় নির্ভীক সৈনিক হিসেবে নিজেদের সর্বদা নিয়োজিত রেখেছেন। এটা আনন্দের বিষয় যে, মুজিববর্ষে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্বমানের নার্স ও মিডওয়াইফ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নার্সিং ও মিডওয়াফারি অধিদপ্তরের গৃহীত ও বাস্তবায়িত কার্যক্রম সমূহ সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে। দেশের জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরনে তথা মাতৃ-মৃত্যু হার ও শিশু-মৃত্যু হার কমানোর ক্ষেত্রে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের গৃহীত কার্যক্রমের ভূয়সী প্রসংসা করেন।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার বলেন, নার্সিং পেশা দেশ-বিদেশে সমাদৃত। বিদেশে নার্সদের চাহিদা ও গুরুত্ব অনেক। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। আমাদের দেশে নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রায় বত্রিশ হাজার নার্স পাশ করে বের হয়। এই বিশাল সংখ্যক নার্স দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে নার্সদের কাজের সুযোগ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এ বিষয়ে অনেক আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) ঢামেকহা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন পাটওয়ারীর বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সব পর্যায়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে নার্সদের ঘাটতি পূরনের জন্য বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় ৩৩ হাজার নার্স নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার নির্দেশনায় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এগিয়ে যাচ্ছে। এই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার, পরিচালক এবং কর্মকর্তাগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে আধুনিক ও ডিজিটাল করে গড়ে তুলেছেন।

স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ) মহাসচিব মো. ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই বাংলাদেশের নার্সদের একমাত্র আপনজন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন নার্সদের উন্নতি হতেই থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টপ্রশাসন অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার নার্সদের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) সিলেট এম.এ. জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাই আলী সাদেক বলেন, বর্তমান নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো অধিদপ্তরের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা এসেছে। এখন কোন নার্সিং কর্মকর্তা অধিদপ্তরে কোন কাজে গেলে হয়রনির শিকার হতে হয় না। দালালদের অপতৎপরতা রোধে নার্সদের বদলির বিষয়ে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেন। 

সরাসরি বদলির আবেদনকারী নার্সের সাক্ষাৎকার নিয়ে বদলির ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে সিদ্দিকা আক্তার দায়িত্ব নেয়ার পর অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। ইসরাইল আলী সাদেক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নার্সিং ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। এর অংশ হিসেবে নার্সদের প্রশিক্ষণ বিকেন্দ্রিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিদ্দিকা আক্তার নার্সদের প্রশিক্ষণ ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি জেলায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। নার্সিং পেশার উৎকর্ষ সাধনের জন্য ইসরাইল আলী সাদেক প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী, সচিব এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। 

ইত্তেফাক/কেকে