'অধ্যাপক তাজমেরির গ্রেফতারে ঢাবি শিক্ষক সমিতি নীরব'

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ২১:১৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য তাজমেরি এস ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। এসময় তারা তাজমেরি এস ইসলাম প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নীরবতার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সাদা দলের আহ্বায়ক ও শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, 'অধ্যাপক তাজমেরি ইসলাম গ্রেফতার হওয়ার পর আমি শিক্ষক সমিতিকে জানিয়েছি যাতে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। কিন্তু কোনো ধরনের সাড়া পাইনি। শিক্ষক সমিতির করণীয় ছিল অন্তত একটা বিবৃতি দেওয়া। সমিতির একজন কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে অধ্যাপক তাজমেরি ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।'

সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশের গুণী মানুষদের কারান্তরীণ রাখার অর্থ হচ্ছে গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নির্বাসিত করা। জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে সরকার বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বিএনপির রাজনীতি তথা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাস করাটাই যেন তাজমেরি ইসলামের অপরাধ। এ জন্যই তাঁকে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। শাসকগোষ্ঠী দেশে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তবে সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন এই সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের সকল অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে সব সময় প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে শিক্ষক সমিতি। অথচ শুধু জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসী হওয়ায় তাজমেরি ইসলামের মতো একজন স্বনামধন্য শিক্ষকের গ্রেফতারে তারা কোনো সাড়া শব্দ পর্যন্ত করেনি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি আপনারা প্রতিবাদ না জানলে এদিন আপনাদের কাছেও ফিরে আসবে।

মানববন্ধনে সাদা দলের সদস্য সচিব অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিনের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান, শিক্ষক সমিতির সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ইমরান কাইয়ুম, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইয়ারুল কবির, রোকেয়া হলের সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক লায়লা নুর ইসলাম প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এসটিএম