পেশার ঊর্ধ্বে শিক্ষকতা
মানবশিশুর জন্মের পর থেকে বাবা-মা যেমন তাদের ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা দিয়ে সন্তানকে বড় করে তোলেন, তেমনই শিক্ষকগণ শিক্ষার আলো দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যান। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমেই নয়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন সুশৃঙ্খল, পরিশ্রমী, সৎ ও সাহসী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষাটা প্রদান করেন আমাদের শিক্ষকেরা। তাদের স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা, আদর ও শাসন এবং নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সৎ, সাহসী ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। সমাজ ও জাতি গঠন, দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়নে, দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে, বিশ্বের দরবারে নিজ দেশের গৌরবময় অবস্থান গড়ে তুলতে একজন আদর্শ শিক্ষকের অবদান অনস্বীকার্য। শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে একটি শিক্ষিত জাতি।
—শ্রাবন্তী হরি
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
শিক্ষকদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান সংহত করা জরুরি
জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক। তাঁরা জাতির প্রকৃত কর্ণধার। শিক্ষক তার ছাত্র-ছাত্রীদের অন্তরের তথা প্রতিভার উন্মেষ ঘটান, ছাত্র-ছাত্রীরা তা কার্যকর করেন। কিন্তু সুদূর অতীতের শিক্ষা ব্যবস্থা অনানুষ্ঠানিক থাকলেও বর্তমান আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকতায় ভরপুর। এ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষকদের কর্তব্য এবং শিক্ষার্থীর কৌতূহলের গতিকে করছে সীমিত। আমাদের শিক্ষকরা অবহেলিত তাই তাদেরকে এখন অনেক ক্ষেত্রেই অনৈতিক সমঝোতায় চলতে হয়। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাঁধা দিলে শিক্ষককে লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে উশৃঙ্খল ছাত্রদের হাতে। এমতাবস্থায় শিক্ষকরা ছাত্র ছাত্রীদের থেকে শ্রদ্ধা পাওয়ার আশা বিসর্জন দিতে বসেছেন। দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রত্যয়ে শিক্ষকদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান সংহত করার কোন বিকল্প নেই।
—এস. এ নেহা
শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
সৎ নিষ্ঠাবান শিক্ষকই জাতির কর্ণধার
যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর শিক্ষকেরা বটবৃক্ষের মতো ভূমিকা পালন করে আসছেন। মানুষ গড়ার কারিগর যত বেশি যোগ্য হবেন, সুদক্ষ হবেন, ততবেশি যোগ্য নাগরিক পাবো আমরা। একজন শিক্ষক তার জ্ঞান, গবেষণা ও নৈতিকতার সাহায্যে একটি জনসমষ্টি গড়ে তুলেন যারা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের মানসম্মত বেতনের ব্যবস্থা করা, অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাদের ভূমিকাকে জনগণকে উপলব্ধি করতে সহায়তা করা, অধিক মেধাবী, পরিশ্রমী, নৈতিকতা সম্পন্ন, তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ শিক্ষক নিয়োগ দিলেই জাতির অধঃপতন থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নৈতিকতা শিক্ষার পাশাপাশি চর্চার যথাযথ ব্যবস্থা করা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করি। ঘোর অমানিশা, অন্ধকার কেটে যাক! ফিরে আসুক জাতির আসল কর্ণধার। শিক্ষক হয়ে উঠুক সব লোভের ঊর্ধ্বে সমাজের আলোকবর্তিকা।
—জান্নাতুল মাওয়া শশী
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ
আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের চালিকাশক্তি শিক্ষক
একজন শিক্ষক একজন ছাত্রের অভিভাবক। শিক্ষক যে শুধু মাত্র পড়াশোনার ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করে এমন না। একজন শিক্ষক একজন ছাত্রকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেন। ছাত্রদের মনের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে তুলেন। একটা ছাত্রের জীবনের লক্ষ্য থেকে শুরু করে জীবনের সফলতার প্রত্যেকটা ধাপে শিক্ষকের অবদান অনস্বীকার্য। আলোকিত সমাজ গঠনের মূল চালিকাশক্তি ও দক্ষ কারিগর তিনি। শিক্ষক মানুষের সুপ্ত প্রতিভা, গুণাবলির বিকাশ, ব্যক্তিত্বের জাগরণ, মেধা-মননে উৎকর্ষতা সাধন করে জীবন আলোকিত করেন। বাবা-মা শিশুকে জন্ম দেন ও লালন-পালন করেন ঠিকই কিন্তু তাকে সফল ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন শিক্ষক। সমাজে আধুনিকতার সূচনা ঘটান শিক্ষক, কারণ তিনি জ্ঞানে-বুদ্ধিতে ও পরিকল্পনায় থাকেন সবার চেয়ে এগিয়ে। তাই একজন শিক্ষককে সভ্যতার রচয়িতা বলা হয়।
—আবির হাসান সুজন
শিক্ষার্থী, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগ
ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকুক
একটি শিশু যখন নিজস্ব সত্ত্বা ছেড়ে গুটিগুটি পায়ে পৃথিবীর চলমান নিয়ম-কানুনের মধ্যে খোলস খুলে বের হয়, তখনি তাদের সত্ত্বার বড় একটা অংশ শিক্ষকের সঙ্গে জুড়ে যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় ছাত্রছাত্রীরা পরিবারের সদস্যদের চাইতে শিক্ষকদেরকে তাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু শতাব্দীর পরিবর্তনে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক দিন দিন যেনো শুধুমাত্র ক্লাসরুম পর্যন্তই বিরাজমান, এর কারণ নানারকম সামাজিক অবক্ষয়, শিক্ষকের প্রতি ছাত্রদের বৈশ্বিকভাবে গড়ে উঠা নানারকম নেতিবাচক ধারণা, শিক্ষকের অনীহা ইত্যাদি। শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান, সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করলেই তারা শিক্ষকতাকে শুধু পেশা নয়, ভালোবেসে গ্রহণ করবে। ভালোবেসে গড়ে উঠবে ছাত্র-শিক্ষকের পুত্র-কন্যা তুল্য সম্পর্ক।
—আনতাজ হেনা আখি
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ
শিক্ষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ
মাতা-পিতা শিশুকে জন্ম দেন আর শিক্ষক তাকে মানুষরূপে গড়ে তোলেন। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে মানুষের প্রতিভার বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন শিক্ষক। যুগে যুগে কালে কালে বিভিন্ন ধর্মমতে পথভ্রষ্ট জাতিকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা মহামানবদেরকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। জ্ঞান বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধ সহ সকল জ্ঞান ভান্ডারের সাথে জাতি পরিচিত হতে পারে একমাত্র শিক্ষকের মাধ্যমে। দেশব্যাপী শিক্ষকদের বৈধ অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা করা, শিক্ষকদের জীবনের মান উন্নত করার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি এবং শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হওয়া সময়ের অনিবার্য দাবি। জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকদের সর্বক্ষেত্রে মর্যাদা এবং মূল্যায়ন করা জরুরি। শিক্ষকদের মূল্যায়ন ছাড়া সুশিক্ষিত সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব নয়।
—সাঈমা আক্তার
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জাতি গঠনের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার শিক্ষকরা
শিক্ষকরা আমাদের সম্মান এবং শ্রদ্ধার পাত্র। সেই আদিকাল থেকে সমাজের একটা বড় অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে আমদের শিক্ষক সমাজ। তারা হলো সমাজের দর্পণ। দেশের ভবিষ্যতে প্রজন্ম মেধা দক্ষতা অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে। অতি দুঃখের কথা হলো সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের প্রতি সহিংসতার খবর প্রাই পত্রিকার পাতায় লক্ষ্য করা যায় যা জাতির জন্য আদৌও সুখবর নয়। তবে কিছু কিছু শিক্ষক আছেন যাদের কিছু কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফলে সেটা অন্য শিক্ষদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পরে। শিক্ষক দিবস আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক আমরা প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ এবং যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা করবো।
—মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
সমৃদ্ধ জাতি গঠনে প্রয়োজন যোগ্য শিক্ষক
উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষার গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, ঠিক তেমনি উন্নত শিক্ষার জন্য প্রয়োজন যোগ্য শিক্ষক। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমানে আমাদের দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে শুরু করে ঘুষ, জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস, মাদকাসক্তি এমনকি ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ডেও শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা প্রতিনিয়ত লক্ষণীয়। নৈতিক অবক্ষয়ের ফলশ্রুতিতে ব্যহত হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা। শিক্ষদের আদর্শিক গুণাবলি অর্জন করা অপরিহার্য এবং সরকারের উচিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা। পাশাপাশি শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা, রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে কেননা আর্থিক ভাবে সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষক জাতি গঠনে তার মেধা ও মননের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে পারবে না। সর্বপরি সৎ, যোগ্য ও আদর্শিক শিক্ষক তৈরির মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হোক জাতীয় শিক্ষক দিবসের মুল প্রতিপাদ্য।
—মো. শাহিন হোসেন
শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
