মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পাবনায় বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ০১:০০

পাবনায় ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধসহ অর্ধশতাধিক মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিদিন। এদিকে লক্ষ্য করা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর মুখে মাস্ক থাকলেও কিছু পরীক্ষার্থীর মুখে নেই। পাবনা সরকারি এ্যাডওয়ার্ড কলেজ, শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, পাবনা কলেজসহ বেশ কিছু কেন্দ্রে অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, হাসপাতালে প্রতিদিন ঠাণ্ডাজনিত নিউমোনিয়াসহ ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গড়ে ৫০-৬০ জন করে রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এদের মধ্যে প্রায়ই শিশু ও বৃদ্ধ। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে ১৫০ ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৭৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তিনি আরো জানান, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ২৫০টি। এর মধ্যে কোভিড রোগীদের জন্য ১০০ শয্যা সংরক্ষিত করে রাখার পর বাকি রয়েছে ১৫০টি শয্যা। কিন্তু এ হাসপাতালে রোগী ভর্তি রয়েছেন গড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০।

ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীখোল গ্রামের শিশু ইউসুফ আলীর মা রোজিনা খাতুন বলেন, হঠাৎ করেই গত কয়েক দিন থেকে আমার ছেলেটি অসুস্থ ছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে পাঁচ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করার পর জানা গেল শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে। এত মানুষের চাপ আর সহ্য হচ্ছে না। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শহরের নয়নামতি মহল্লার শিশু রায়হান আলীর মা রুমি আক্তার বলেন, ছয় দিন আগে শিশুর ঠাণ্ডা-জ্বর দেখা দেয়। পরীক্ষা করে নিউমোনিয়া শনাক্ত হয়েছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরের শিশু রায়ানের মা সিমা খাতুন বলেন, সাত দিন যাবত হাসপাতালে ভর্তি হলেও এখন পর্যন্ত সিট জোটেনি।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. কে এম আবু জাফর ইত্তেফাককে বলেন, জেনারেল হাসপাতালে শীতে আশঙ্কাজনকভাবে নিউমোনিয়া, জ্বর- ঠাণ্ডা রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীর চাপে কোনো ওয়ার্ডেই নির্ধারিত শয্যা অনুযায়ী রোগী ভর্তি বা চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। তার পরও আমরা চেষ্টা করছি—সীমিত ব্যবস্থার মধ্যে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে। পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, পাবনায় শীতজনিত রোগ বাড়লেও চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আতঙ্কিত হওয়ার মতো এখনো কিছু হয়নি। প্রতি বছর এ সময় ঠাণ্ডাজনিত কারণে নানা অসুখে শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়ে থাকেন। রোগীর সংখ্যা যদিও বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। করোনার কারণে আমরা রোগীসহ চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছি।

এদিকে কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে, চলমান পরীক্ষাকেন্দ্রে জ্বর, ঠাণ্ডা ও কাশি নিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে শঙ্কা ও উদ্বেগ। কিছু পরীক্ষার্থী মাস্ক ব্যবহার করছেন না। পরীক্ষা কক্ষের পরিদর্শকরা তাদেরকে মাস্ক পরতে বারবার তাগিদ দিচ্ছেন। এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। পরীক্ষা চলাকালে অনেক পরীক্ষার্থী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বরে আক্রান্ত। সঙ্গে হাঁচি-কাশিও রয়েছে। অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে সরেজমিনে পাবনা কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে কথা হয় সহকারী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন ও প্রভাষক বাবর আলী মালিথার সঙ্গে। তারা বলেন, পরীক্ষার্থীদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই সিট বসানো হয়েছে। আশা করছি, শঙ্কামুক্ত পরিবেশে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

উত্তরাঞ্চল থেকে স্পেশাল ট্রেনে কোরবানির পশু আসবে ঢাকায় 

দ্বিতীয় ইউনিটের অভ্যন্তরীণ কন্টেইনমেন্টে ডোম স্থাপিত

চলনবিলে অবৈধ জালে মাছ নিধন

ঈশ্বরদীর পদ্মার চরে বাদাম চাষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জলাবদ্ধতায় বেহাল পাবনা বিসিক শিল্পনগরী

শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলা: সাজাপ্রাপ্ত আসামি পিন্টু কারাগারে

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি পিন্টুকে গ্রেফতারের পর জেলে

ঈশ্বরদী পৌরসভার উদ্বৃত্ত বাজেট ঘোষণা