শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সফলতা বলতে আমরা কী বুঝি

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৩৬

সময়ের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ সফলতা লাভ করে, কেউ সম্পদের সমৃদ্ধি দিয়ে আবার কেউ সালাত তথা নামাজ এবং আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি দিয়ে। সফলতা বলতে আমরা বুঝি—গরিব থেকে ধনী হওয়া, কুঁড়েঘর থেকে বহুতল বড় বিল্ডিং, রিকশাওয়ালার ছেলে হয়েও বড় ব্যবসায়ী হওয়া, বাপহীন সন্তান হয়েও কষ্ট করে পড়াশোনা করার পাশাপাশি চাকরি করা ইত্যাদি...। দুনিয়ায় প্রচলিত যতরকম কাজকর্ম আছে, এসব কাজকর্মে টিকে থাকার নামই হচ্ছে বর্তমান সময়ের সফলতা। এবং আমরা এটাকেই মেনে নিচ্ছি।

অতঃপর এ সফলতার ভাবনায় যারা আসক্ত, তাদের জন্য পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেন, পার্থিব দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রতি অনুরাগ মানুষকে ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন করে ফেলে। এ কারণে পরকাল সম্পর্কে জানা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তারা শুধু দুনিয়ার জ্ঞানেই জ্ঞানী। ( সুরা আর-রুম / আয়াত- ৭ )

প্রত্যক মুসলিম নর-নারীর সবচেয়ে বড় সফলতা ও মানদণ্ড হচ্ছে মহান আল্লাহ তায়ালার ভয় অর্জন করা এবং রসূলের আদর্শে আদর্শবান হওয়া। কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেন: আর যে কেউ আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তার তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য। (সুরা নূর /আয়াত -৫২)

একজন মুমিন ব্যক্তি সফলতা অর্জন করেন সালাতের মাধ্যমে—কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেন : অবশ্যই মুমিনরা সফল হয়েছে, যারা নিজদের সালাতে বিনয়াবনত। আর যারা অনর্থক কথা থেকে বিমুখ। আর যারা যাকাতের ক্ষেত্রে সক্রিয়। আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্হানের হিফাযতকারী। তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে তারা ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। আর যারা নিজদের আমানতসমূহ ও অঙ্গীকারে যত্নবান। আর যারা নিজদের সালাতসমূহ হিফাযত করে। তারাই হবে ওয়ারিস। যারা ফিরদাউসের অধিকারী হবে। তারা সেখানে স্হায়ী হবে। (সুরা মুমিনুন / আয়াত-১-১১)

দুনিয়ার তুচ্ছতা নিয়ে হাদিসে এসেছে: জাবের (রা.) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি কানকাটা মৃত বকরির বাচ্চার কাছ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে এটাকে এক দিরহামের বিনিময়ে নিতে পছন্দ করবে? তারা বললেন, আমরা তো এটাকে কোনো কিছুর বিনিময়েই নিতে পছন্দ করব না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এটা তোমাদের কাছে যতটুকু নিকৃষ্ট, আল্লাহর কাছে দুনিয়া (এবং তার সম্পদ) এর চাইতেও অধিক নিকৃষ্ট (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৫৭)। অর্থাত্ যে ব্যক্তি দুনিয়া এবং ‘তার’ সম্পদ নিয়ে থাকে, তাকে মহান আল্লাহ তা’য়ালাও ভালোবাসেন না।

দুনিয়ার জীবন খুব মায়াবিনী এবং অল্প সময়ের ক্ষণস্হায়ী একটা পথ। এই পথ পাড়ি দিয়েই যেতে হবে চিরস্হায়ী জীবনে। কেউ জাহান্নামে, কেউ সাজসজ্জাহীন সুন্দর জান্নাতে। এবং এই মায়াবিনী দুনিয়াতে সফলতা জয় না করে যদি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লাকে ভালোবাসায় নিজেকে জয় করেন, তাহলে এটাই হবে এক জন মুমিনের সবচেয়ে বড় সফলতা।

লেখক:শিক্ষার্থী, দারুল-উলুম ধনুট ইসলামিয়া মাদ্রাসা, শেরপুর, বগুড়া।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

হজের খরচ বাড়লো আরও ৫৯ হাজার টাকা

৫ জুন থেকে হজ ফ্লাইট শুরু করতে চায় ধর্ম মন্ত্রণালয়

হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় শেষ আজ 

জাকাত বোর্ড ও দারিদ্র্য দূরীকরণ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বৃষ্টির সময় মুমিনের করণীয় 

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৮ জুলাই পবিত্র হজ

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ

শাওয়াল মাসের আমলসমূহ