যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ফেল দেখানো ১১ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এই ১১ জনসহ ফেল থেকে বিভিন্ন গ্রেডে পাস করেছে ৩৫ জন পরীক্ষার্থী। জিপিএ-৫ অর্জন হয়েছে ২৩ জনের। বাকিদের পরিবর্তন হয়েছে বিভিন্ন গ্রেড। সব মিলিয়ে ৬০ জনের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে।
শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, একবারেই ফেল করা শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ পাওয়ায় পরীক্ষকদের দক্ষতা আর দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, পূর্বে যারা পরীক্ষক ছিলেন তারা কীভাবে এই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন? যদি সঠিক মূল্যায়ন করে থাকতেন তাহলে তারা কীভাবে ফেল করে পরে পাশ করলো?
বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্বে খাতা দেখায় ভুল করা পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
করোনার কারণে দেড় বছর সরকারি ক্লাস না হওয়ায় ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেয়া হয় তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে। গত ৩০ ডিসেম্বর এসএসসি ও সমমানে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সেই ফলাফলে যশোর বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাস করেছিল ৯৩ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৬ হাজার ৪শ’ ৬১ জন। প্রকাশিত ফলাফলে আপত্তি ও প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ৬ হাজার ৮শ’ ৬৩ জন শিক্ষার্থী উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়নের জন্য আবেদন করে। এতে ৬০ জনের ফলে পরিবর্তন আসে। তাদের মধ্যে ফেল করা ৩৫ জন পুনঃনিরীক্ষায় বিভিন্ন গ্রেড পয়েন্ট পেয়ে পাস করেছে। এর বাইরে অকৃতকার্য থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। এ গ্রেড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন, এ মাইনাস থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। এছাড়া বাকিদের বিভিন্ন গ্রেডে ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, পরীক্ষার উত্তরপত্রে নম্বর যোগফল গণনার কারণে পুনঃনিরীক্ষার রেজাল্টে পরিবর্তন আসে। ৬ হাজার ৮শ’৬৩ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র নতুন করে পরীক্ষক নির্ধারণ করে মূল্যায়ন করা হয়। এতে ৬০ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। যাদের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৩৫ জন প্রথম প্রকাশিত ফলাফলে ফেল করেছিল।
ফেল করা শিক্ষার্থীরা পুনঃনিরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ায় পরীক্ষকদের দক্ষতার বিষয়ে প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন, অভিজ্ঞ পরীক্ষক দিয়ে খাতা পুনঃনিরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে কিছু খাতায় অনিচ্ছাকৃত বা গণনার কারণে ভুল হয়। নিয়ম অনুযায়ী যে প্রাপ্য ফলাফল সেটাই দেয়া হয়েছে। আর খাতা দেখায় ভুল করা পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
