করোনার কারণে যখন মানুষের জীবনযাত্রার যাচ্ছেতাই অবস্থা তখনই এক অসাধারণ জিনিসের ব্যবহার শুরু করলেন, যা দাড়া মানুষের কর্মসংস্থানের দারুণ সুযোগ করে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম রাজিব। অনেকটা শখের বশেই শুরু করেন বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ। নারায়ণগঞ্জের সফল ডাইং এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মো. কাশেমের বড় ছেলে তিনি।
কলেজজীবন থেকেই ছিল বাবার ব্যবসার প্রতি তীব্র আকর্ষণ। কলেজ শেষে চলে যেতেন বাবার প্রতিষ্ঠানে এবং প্রতিটি কাজ খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতেন। তার ও ইচ্ছা ছিলো বাবার মতন ই হবেন। তাই বাড়ির বড় ছেলে হয়ে তিনি বাবার পড়ে ব্যবসার হাল ভালো ভাবেই ধরেছেন। ২০১৯ সালে যখন করোনা মহামারীর কারণে প্রায় সকল ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, তখন তিনি ও কিছুটা হলেও চিন্তিত হয়ে পড়েন। কিন্তু তার পরপরই মাথায় আসে বায়োফ্লক নামক এক পদ্ধতি যা দিয়ে মাছ চাষ করা যায়।
তিনি বলেন, লকডাউনে বিভিন্ন বই পড়ে বায়োফ্লক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তখন থেকেই তার আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বই ও গবেষণা চালিয়ে যেতে শুরু করেন তখন থেকেই। সুদূর আমেরিকা থেকে ডা. এরামের বায়োফ্লক সম্বন্ধিত বইটি আনিয়েছেন তার গবেষণা আরও ভালো ভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য। পরিবেশ বান্ধব এই মাছচাষের জন্য তিনি নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যান।
নিজ বাসার আঙিনাকে তিনি চাষ করার জায়গা হিসেবে বেছে নেন। সব ধরণের কার্যক্রম এবং মাছ চাষের পরীক্ষামূলক কাজ চালিয়ে যান। এমনকি তিনি মাছ চাষ করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তেলাপিয়া, চিংড়ি, কৈ ও গোলসা। দেশি-বিদেশি অনেক মাছ চাষ করার পরেও যেন সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না। তাই তিনি আরও বিস্তৃত ভাবে জানতে শুরু করেন এই পদ্ধতির ব্যাপারে। মহামারি কিছুটা স্থির হলে পুরোপুরি কাজ শুরু করে দেন বায়োফ্লক নিয়ে। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কিনে আনা থেকে শুরু করে অফিস শেষে এই পদ্ধতিতে সময় দেয়া তিনি রোজই করতে থাকেন। নিজ অর্থায়নে তিনি যুবকদের কে ‘উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর’ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাদেরকে বায়োফ্লক সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন বিস্তারিত ভাবে। ৩৮০০০০ লিটারের আটটি চৌবাচ্চা নিয়ে শুরু করেছেন ‘আজাদ ফিশারিজ’।
এই ফিশারিজ নিয়ে তিনি অনেক বড় হবার স্বপ্ন দেখেন যেখানে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ একদিন বিশ্বের নানা জায়গায় প্রকাশিত হবে। একজন উদ্যোক্তা দাড়া অনেক বড় কিছু সম্ভব, তিনি এই মন্ত্রেই বিশ্বাস করেন। শুধু মাছই নয় বরং তার বাড়িতে কবুতর, ময়ুর সহ রয়েছে আরও নানা ধরনের পশুপাখি।
তিনি বলেন ‘একজন ব্যবসায়ী কিংবা উদ্যাোক্তার কাজ শুধু মুনাফা অর্জন নয় বরং তাকে সৃষ্টি করে দিতে হয় ব্যবসায়ের নতুন পথ"। তার জীবনে ব্যবসায়ের গুরু মানেন তার বাবা কে। তার হাত ধরেই নব্বই দশকের জনপ্রিয় "আজাদ নিট" গড়ে উঠেছে। বর্তমানে তিনি আজাদ টেক্সটাইল ও আজাদ নিট কম্পোজিটরের পরিচালক ও কাইফ ডেভেলপমেন্ট লিঃ চেয়ারম্যান এর দায়িত্বে আছেন। তার নিজ এলাকা রসুলবাগ যুব সংঘের সভাপতি এবং সেইসাথে নারায়ণগঞ্জ ফুটবল একাডেমীর সম্মানিত চেয়ারম্যান। ব্যাক্তি জীবনে তার রয়েছে দুই আদরের সন্তান।
নিজ উদ্যোগে অনেক বড় কিছু করা সম্ভব তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ তাজুল ইসলাম রাজিব। তিনি মনে করেন চেষ্টা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে অনেক বড় কিছু করা সম্ভব। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি।
