বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া ও ভেদুরিয়া গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা একটিই বাঁশের সাঁকো। চরমালিয়া-চরপদ্মা খালে সেতু না হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বাসিন্দারা। সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যদের অনুরোধ করেও সেতু না পাওয়ায় হতাশ হয়েছেন তারা। আদৌ সেখানে সেতু নির্মিত হবে কিনা এ নিয়েও সন্দেহ করেছেন গ্রামবাসী।
জানা গেছে, ১৯৯২ সালের দিকে জয়ন্তী নদীর কোলঘেষে বিশাল চর জেগে ওঠে। ২০০১ সালের দিকে চর এলাকায় বসতি করে মানুষ বাস করতে শুরু করে। বর্তমানে চরমালিয়া ও ভেদুরিয়া গ্রামে তিন সহস্রাধিক মানুষ বাস করছেন।
চরমালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শওকত হোসেন দুলাল জানান, চরমালিয়া ও ভেদুরিয়া গ্রামের মানুষকে হাট বাজার, স্কুল কলেজে যেতে হলে চরমালিয়া-চরপদ্মা খাল পাড় হয়ে যেতে হয়। এই খাল পার হতে নৌকা ব্যবহার করতো। পরবর্তীতে স্থানীয়রা চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। এখন সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করাই একমাত্র ভরসা। এদিকে সাঁকো পাড় হতে গিয়ে নারী ও শিশুরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত করা অনেক কষ্টের।
চরমালিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, ২০১৭ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান চরমালিয়া গ্রামে এসেছিলেন। জনদুর্ভোগ নিরসনে তিনি চরমালিয়ার খালে একটি সেতু করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আজও সেতু নির্মাণ হয়নি। সাঁকো দিয়ে পারাপারে স্থানীয়দের অনেক কষ্ট হচ্ছে। বড় বাজেটের ঢালাই সেতু না হোক কম বাজেটের লোহার সেতু (আয়রন ব্রিজ) নির্মাণ করা হলেও জনদুর্ভোগ কিছুটা কমতো।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান জানান, সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশপত্র (ডিও লেটার) থাকলে বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরের প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে বরাদ্দ পেলে সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা যায়। চরমালিয়া-চরপদ্মা খালে সেতু নির্মাণের ডিও লেটার পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হব
