বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চকরিয়ায় চলছে ফসলি জমি কেটে টপসয়েল লুটের মহোৎসব

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৪৫

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে কৃষিজমি কেটে মাটি লুটের মহোৎসব। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী চক্র কৌশলে মালিকদের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে কিংবা কেউ নিজের জমি শ্রেণী পরিবর্তনপুর্বক ফসলি জমির টপ সয়েল বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন। 

গত দুই মাস ধরে উপজেলার উপকূলীয় বিভিন্ন ইউনিয়নে জমির উপরি অংশ (টপ সয়েল) মাটি কেটে শ্রেণী পরিবর্তনের মাধ্যমে লুটের মহোৎসব চললেও কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা রয়েছেন একেবারে নীরব। এ সুযোগে অনেকটা বিনাবাঁধায় লুটের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে মাটিখেকো সিন্ডিকেট। এ অবস্থার কারণে আগামীতে চকরিয়া উপজেলার প্রতিটি জনপদে কৃষিজমির পরিমাণ তুলনামূলক কমে যাওয়ার সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতে অদূর ভবিষ্যতে চরম খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও পরিবেশ সচেতন মহল।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম নাছিম হোসেন বলেন, মাটির উপরি অংশ (টপ সয়েল) ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টপ সয়েল কাটার ফলে জমি তার উর্বরতা হারাচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ। দিন দিন জমির উপকারী উর্বরতা হ্রাস পাওয়ায় কৃষিতে ফসল উৎপাদনে ধ্বস নামার উপক্রম দেখা দিয়েছে।
     
তিনি বলেন, চকরিয়া উপজেলা খাদ্য উৎপাদনে একটি উদ্বৃত্ত উপজেলা। কিন্তু বর্তমান সময়ে যেভাবে কৃষিজমি কেটে শ্রেণী পরিবর্তন করা হচ্ছে, বসতঘর নির্মাণ হচ্ছে, আবার মাটি লুটের মাধ্যমে জমিতে মৎস্যপুকুর নির্মাণ করা হচ্ছে, এতে অদূর ভবিষ্যতে কৃষিজমির পরিমাণ তুলনামূলক কমে যাবে। তাতে উৎপাদন সংকোচিত হয়ে চরম খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
   
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেন, বর্তমানে কৃষিজমির উপকারী উর্বর অংশ (টপ সয়েল) কাটার মহোৎসব চলছে উপজেলার ফসলি জমিতে। এসব মাটি ইটভাটা, পুকুর ও ভিটে ভরাট কাজে ব্যবহার হচ্ছে। একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বিঘ্নে জমির টপ সয়েল কেটে পাচারে মেতে ওঠেছে।
    
উপজেলার ঢেমুশিয়া, পশ্চিমবড় ভেওলা, বিএমচর, কোনাখালী, সাহারবিল ও পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে তুলনামূলক বেশি ফসলি জমির মাঠে শোভা পাচ্ছে মাটিকাটার যন্ত্র (স্কেভেটর)। স্কেভেটর দিয়ে জমির উপরি অংশ কেটে ডাম্পার ও মিনি ট্রাকে ভর্তি নেওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এছাড়া পুকুর ও মানুষের ভিটে ভরাট কাজে ব্যবহার হচ্ছে এসব মাটি।
    
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ ও সংরক্ষণ) মো.মহিউদ্দিন বলেন, কৃষিজমির উপরি অংশ হলো জমির প্রাণ। জমির ওপরের ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত মাটিকে উর্বর অংশ (টপ সয়েল) বলা হয়। মাটির ওই অংশই থাকে মূল জৈবশক্তি। এটি কেটে নেয়া হলে আর জমিতে ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকেনা। 

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নিজ বন্দুকের গুলিতে ফরেস্ট গার্ড নিহত 

কক্সবাজারে ‘অতিরিক্ত মদপানে তরুণীর মৃত্যু’ : ২ বন্ধু আটক

কক্সবাজার ঘিরে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী  

গ্যাসের চুলার আগুনে দগ্ধ পিতাপুত্রসহ ৩ রোহিঙ্গার মৃত্যু

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নাফনদীতে জেলেদের জালে মিললো ২৫ কেজি ওজনের কচ্ছপ 

দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইয়াবা ডন ভুট্টু নিহত

সৈকতে ভেসে যাওয়ার ৭২ ঘণ্টা পর তরুণের লাশ উদ্ধার

রামুতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো প্রকৌশলীর