হাতিরঝিলের যে সড়কে সন্ধ্যা নামতেই ভুতুড়ে পরিবেশ হয়

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:৫৩

রাজধানীর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র হাতিরঝিল। হাতিরঝিলের ৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে বাহারি বাতি জ্বললেও প্রকল্পের বাড্ডা (হাতিরঝিরল মোড়) থেকে শাহজাদপুর লেক ড্রাইভ সড়কের চিত্র উল্টো। ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটিতে সন্ধ্যার পরই ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। এখানে জ্বলে না কোনো সড়কবাতি।  এই  সুযোগে চুরি-ছিনতাইসহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।  

 ২০১৮ সালের নভেম্বরে লেক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে  রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ৩০ ফুট চওড়া এই সড়ক নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুলশান অ্যাভিনিউর যানজট কমানো।এছাড়া লেকপাড়ে ৬ ফুট আর বিপরীত পাশে ৩ ফুট চওড়া ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে লোকজন হাঁটতে-বেড়াতে আসতে পারে। বর্তমানে পুরো হাতিরঝিল প্রকল্পটি রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বে রয়ছে রাজউক।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড্ডা-শাহজাদপুর লেক ড্রাইভ সড়কে অন্ধকার

তবে, সড়কবাতি নষ্ট থাকায় রাতের বেলা স্থানীয়রা আগের মতো লেক-পাড়ের ফুটপাতে হাঁটতে যান না। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে এই লেক ড্রাইভ সড়কের যেখানে-সেখানে ভাঙা, ছোট ও মাঝারি গর্ত। রাতের বেলা এই সড়কটি পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায়। ফলে এই সড়কে চলাচল করা আমাদের জন্য কষ্টকর। প্রায় সময়েই ভাঙা রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।’

সড়কটির ফুটপাতের অনেক স্থানে ভাঙা

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘লেক ড্রাইভ সড়কটির বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। সড়কে বাতি না থাকায়  মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে এই সড়ক। রাত ৯টা বা ১০টার পর মাদকসেবীরা কাউকে রাস্তায় একা পেলে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সবকিছু কেড়ে নেয়। এ কারণে সন্ধ্যার পর অনেকেই লেকের পাড় এড়িয়ে চলেন।’ 

বাড্ডা-শাহজাদপুর লেক ড্রাইভ সড়কের ল্যাম্পপোস্টে বাতি আছে, আলো নেই

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড্ডা হাতিরঝিল (মায়া কুঞ্জ) থেকে শাহজাদপুর পর্যন্ত পুরো সড়কে শতাধিক সড়কবাতির খুঁটি রয়েছে। প্রতিটি খুঁটিতে তিনটি করে বাতি বসানোর জায়গা। এই হিসাবে ১০০টি খুঁটিতে ৩০০টি বাতি থাকার কথা। কিন্তু সন্ধ্যার পর সড়কটিতে গিয়ে মাত্র ৫টি খাম্বাতে ৩টি করে মোট ১৫টি বাতি জ্বলতে দেখা গেছে। খাম্বার বাতিগুলোর অর্ধেক নষ্ট, অর্ধেক চুরি হয়ে গেছে। সড়কটির অনেক স্থানে ম্যানহোলের ডাকনা ভাঙা। 

সড়কটির অনেক স্থানে ম্যানহোলের ডাকনা ভাঙা।

লেক ড্রাইভ সড়ক বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘লেক ড্রাইভ সড়কের বেহাল দশা ও সড়কবাতি না জ্বলার বিষয়টি জানা ছিল না। এই সমস্যা সমাধানে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এনই