শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মেলায় কয়েদিদের তৈরি পণ্য কেনায় আগ্রহ

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৪৪

তুলনামূলক দাম কম, কিন্তু মানে ভালো হওয়ায় বাণিজ্য মেলায় কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য ক্রেতা-দর্শনার্থীর মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। দেশের ৬৮টি কারাগারের কয়েদিদের তৈরি এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে উলের সুতা, প্লাস্টিকের তৈরি গৃহস্থালি পণ্য, আসবাবপত্র, সুস্বাদু আচার, নকশিকাঁথা, পোশাক, জুতা, মোড়া, ফুলদানি, পুঁতির ফুলের ঝুড়ি, কুলা, ছুরি, স্ট্রে, নৌকা, ভ্যানিটি ব্যাগ, কাঠের কচ্ছপ ইত্যাদি। এছাড়া স্কুলব্যাগ, গেঞ্জি, টি-শার্ট, পাপোশ, বিছানা, জলচৌকি, ঝাড়ু, পুতুল, লুছনি, লুঙ্গি, গামছা, দোলনা, বেডশিট, টিস্যু বক্স, ড্রেসিং টেবিলসহ দুই শতাধিক ধরনের পণ্য রয়েছে। ‘বাংলাদেশ জেল’-এর উদ্যোগে দেওয়া স্টলে এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরা কারাগারে বসেই এসব পণ্য তৈরি করছেন। কারাপণ্য হিসেবেই পরিচিত এসব পণ্য কিনতে স্টলে ক্রেতারা ভিড় করছেন। এসব পণ্যের বেশির ভাগই কারাগারের বিক্রয়কেন্দ্রে সব সময়ই পাওয়া যায়। প্রচার ও প্রসারের জন্য বাণিজ্য মেলায় কয়েদিদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।

মেলার স্টলে এক দামেই এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে মোড়া ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা, টি-শার্ট ২০০ থেকে ৫০০, নকশিকাঁথা ২ হাজার থেকে ৬ হাজার, পুঁতির ফুলের ঝুড়ি ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঠ ও পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের দাম কম হওয়ায় বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব পণ্য তৈরিতে সরকারি অর্থের জোগান দিয়ে কাঁচামাল কেনা হয়। পণ্য বিক্রির লভ্যাংশের অর্ধেক সংশ্লিষ্ট কয়েদিদের মধ্যে প্রদান করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েদিরা কারাদণ্ড শেষে বাড়ি ফিরে এই শিল্পে জড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা খুব সহজেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কয়েদিদের পণ্য উৎপাদনে যুক্ত করা হচ্ছে। কয়েদিরা কারাগার থেকে মুক্ত হলেও যেন তারা কাজের মধ্যে যুক্ত থাকতে পারে, সেজন্য কারা কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে বলে মনে করা হয়। এই স্টলের বিক্রয়-কর্মী পূজা রাণী সরকার বলেন, মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের অনেকেই এসব কয়েদি শ্রমজীবী মানুষের জীবনের কথা শুনছেন। তাদের প্রতি সহমর্মী হচ্ছেন। গতকাল নারায়ণগঞ্জের গঙ্গানগর থেকে মেলায় আসা গৃহবধূ শাহনাজ পারভীন বলেন, দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় অন্যদের মতো তিনিও বেশ কিছু পণ্য ক্রয় করেছেন এই স্টল থেকে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারা কর্মকর্তা শাহ্ মোহম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, কারাপণ্য এখন ব্যাবসায়িক দিক থেকে আলোর মুখ দেখছে। কয়েদিদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ডেপুটি জেলার মাসুদ হোসেন বলেন, কারাগার এখন বন্দিশালা নয়, সংশোধনাগার। এদিকে মেলায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানায় অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি মাস্ক বিক্রি বেড়েছে। মাস্ক ছাড়া মেলায় ঢুকলেই তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করছে।

বাণিজ্য মেলার আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, দর্শনার্থীদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক ছাড়া কাউকেই মেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

১৩৮ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পণ্য বিক্রি ৪০ কোটি টাকা

শেষ মুহূর্তে মূল্য ছাড়ে মিলছে পছন্দের পণ্য 

সময় বাড়ছে না বাণিজ্য মেলার

ছুটির দিনে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ঢল

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পছন্দের শাল-সোয়েটার কিনতে ভিড় শীতবস্ত্রের স্টলে

উৎসবের আমেজে বেচাকেনার ধুম

কেনাকাটার ফাঁকে রকমারি খাবারে রসনাবিলাস

মেলায় ঘুরে ঘুরে ফার্নিচার দেখছেন দর্শনার্থীরা