৭০ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সংঘর্ষে আহত ১০

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১০:২৪

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তার নাম খলিলুর রহমান। গতকাল সোমবার সকালে পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের কান্দা গুচ্ছগ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনা নিয়ে ধর্ষকের পক্ষের লোকজন ধর্ষণের শিকার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে কিশোরীর বাবা-চাচাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর জখম অবস্থায় পাঁচ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কান্দা ইউপি সদস্য বদিউজ্জামান বলেন, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পরিবার ও অভিযুক্ত উভয়ে ভূমিহীন। তারা কান্দা গুচ্ছগ্রামে তৈরিকৃত সরকারি ঘরে বসবাস করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘন কুয়াশা ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঐ কিশোরী নিজ বাড়ি থেকে একটু দূরে টয়লেটে যায়। এ সময় অভিযুক্ত খলিলুর রহমান ঐ কিশোরীকে ধরে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ধর্ষক পালিয়ে যান। পরে মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার ও অভিযুক্ত পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে সর্বনাশ করেছে। এই বর্বরতার প্রতিবাদ করায় খলিলুর রহমানের লোকজন আমাদের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। তাদের মারধরে আমার স্বামী ও দেবর গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুঠিয়ায় ফিরে গিয়ে থানায় মামলা করব।’

পুঠিয়া থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন ঐ কিশোরীকে ধর্ষণ ও সংঘর্ষের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর থেকে ধর্ষক বৃদ্ধ খলিলুর রহমান পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন কিশোরীর মা।

ইত্তেফাক/এমআর