শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে তারা এই শপথবাক্য পাঠ করেন।
এ সময় তারা বলেন, ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। ১৪০ ঘণ্টার ওপরে অনশনরতদের হার না মানা মনোভাব এই আন্দোলনকে আরও উজ্জ্বল করবে। তবে অনশনরতদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করা হবে।
মঙ্গলবার শাবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। তারা আন্দোলনে আর্থিক সহায়তা করেছেন বলে 'অভিযোগ' পুলিশের। তাদের আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে শাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। শপথ নেওয়ার পর ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন দিক প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে মিলিত হন তারা।
তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার চেষ্টা করার কথা বলা হলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাত ৯টায় কারও অনশন ভাঙার খবর পাওয়া যায়নি। গেলো বুধবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া অনশনে এই পর্যন্ত ২৮ জন শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আটক ৫ শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে: পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) শাবিপ্রবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অর্থ সহায়তার অভিযোগে ৫ সাবেক শিক্ষার্থীকে আটক করে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করতে সহায়তা করেছে সিআইডি ঢাকা। রাজধানীর ফার্মগেট ও উত্তরা এলাকা থেকে শাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ থেকে ২০১২ সালে পাস করা হাবিবুর রহমান স্বপন, একই বছর স্থাপত্য বিভাগ থেকে পাস করা রেজা নূর মঈন দীপ ও নাজমুস সাকিব দ্বীপ, একে এম মারুফ হোসেন ও ফয়সাল আহমেদকে আটক করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ গণমাধ্যমকে বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাদের সিলেটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তথ্য দিতে তদন্ত কমিটির আহ্বান: স্কুল অব ফিজিক্যাল সায়েন্সেসের ডিন ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদার মঙ্গলবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, গত ১৬ জানুয়ারি সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু ও যথাযথ তথ্য উদঘাটনের জন্য এই কমিটি প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য ও প্রমাণাদি সংগ্রহ করতে চায়। এ উদ্দেশ্যে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ডাকযোগে, ইমেইলে অথবা সরাসরি কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য দেওয়া যাবে। তবে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।

মানবিক সংকটে উপাচার্য-শিক্ষার্থীরা