৭০ বছরের জটিলতা শেষে জমি ফিরে পাচ্ছেন মালিকরা

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:০০

রাজধানীর কলাবাগানে অধিগ্রহণকৃত ও অধিগ্রহণের জন্য নির্দেশিত কিন্তু ব্যক্তির নামে রেকর্ডকৃত ও দখলে থাকা প্রায় ১৬ একর জমি পূর্বতন মালিকের অনুকূলে অবমুক্ত করা হবে। এতে জমি ফিরে পাবেন আগের মালিকরা। ধানমন্ডি মৌজার অধিগ্রহণকৃত জমির জটিলতা নিরসনে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ভূমিমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, আইনি জটিলতা থাকায় এসব জমির মালিকরা ৭০ বছর ধরে জমির খাজনা, খারিজ বা হস্তান্তর করতে পারছেন না। অবমুক্তের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। অবমুক্ত প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ভূমিমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮-৪৯ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন নির্মাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগ (তত্কালীন সিঅ্যান্ডবি) এর অনুকূলে ধানমন্ডিসহ আট মৌজায় মোট ৪৭২ দশমিক ৬৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৩ সালের ৮ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশনার মাধ্যমে অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হয় এবং জমির দখল হস্তান্তরিত হয়। কিন্তু প্রত্যাশী সংস্হা ধানমন্ডি মৌজার সিএস ৬৭ নম্বর দাগের অধিগ্রহণকৃত ১৬ দশমিক ৮৭ একর জমির মধ্যে ১৬.০৬ একর জমিতে কোনো সময়ে দখলে যায়নি। দীর্ঘদিন যাবত্ জমির পূর্ব মালিকরা ওয়ারিশ বা অন্যান্য সূত্রে এই জমিতে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ভোগ দখলে আছেন। ১৯৬৮ সালে সরকার ভূমি মালিকদের উচ্ছেদ নোটিশ করলে তারা সরকারের উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রায় লাভ করেন।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪.০০৪৬ একর জমি সিএস, এসএ, আরএস এবং মহানগর জরিপে ব্যক্তির নামে এবং ২.৮৬৫৪ এর জমি সিটি জরিপে গণপূর্ত বিভাগের নামে রেকর্ড হয়। তবে এই জমির মধ্যে কিছু অংশ ব্যক্তির দখলে এবং কিছু অংশ গণপূর্ত বিভাগের দখলে আছে। এজন্য গত ৭০ বছর ধরে জমির মালিকরা খাজনা, খারিজ বা হস্তান্তর করতে পারছেন না। গত বছর ১ মার্চ ভূমি সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় উক্ত জটিলতা নিরসনে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় কমিটির প্রতিবেদনসহ ঢাকা জেলা প্রশাসকের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও অন্যান্য সংস্হার মতামত পর্যালোচনা করে ব্যক্তির নামে রেকর্ডকৃত ও দখলে থাকা উপর্যুক্ত ১৪.০০৪৬ একর জমি পূর্বতন মালিকের অনুকূলে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়া সিটি জরিপে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ডকৃত ২.৮৬৫৪ একর জমির মধ্যে গণপূর্ত বিভাগের দখলে থাকা অংশ ব্যতীত অবশিষ্ট জমি অবমুক্ত করারও সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল সভায় অতিরিক্ত সচিব (অধিগ্রহণ) মুহাম্মদ সালেহউদ্দীন, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক (ভূমি রেকর্ড) মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্হিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এমএএম