চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে সিনেমা অঙ্গন। প্রায় সময় ফাঁকা পড়ে থাকা এফডিসিতে এই মাঘে বইছে নির্বাচনি উত্তাপ। আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে ভোট।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এফডিসিতে প্রতিদিন তারকাদের মেলা বসছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি তারকারা অবস্থান করে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনে নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন-নায়িকা নিপুণের নেতৃত্বে একটি প্যানেল এবং মিশা সওদাগর-জায়েদ খানের নেতৃত্বে আরেকটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচন নিয়ে শিল্পীদের মধ্যে চলছে বাকযুদ্ধ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা পালটাপালটি বক্তব্য দিচ্ছেন। শিল্পী সমিতি থেকে ১৮৪ জনের সদস্যপদ স্থগিত করার কারণে বিক্ষুব্ধরা এই নির্বাচন বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রিট করলেও তা আমলে নেয়নি। নির্বাচন স্থগিত করেনি হাইকোর্ট। ফলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন হতে বাধা নেই।
নায়িকা পপি ১৪ মাস পর অন্তরাল ভেঙে কাঁদলেন, চাইলেন ভোট
এদিকে দীর্ঘ ১৪ মাস অন্তরালে থাকা জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভীন পপি নির্বাচন উপলক্ষ্যে গতকাল যে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পপি তার অন্তরালে যাওয়ার পেছনে শিল্পী সমিতির বিদায়ি কমিটির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান কর্তৃক একাধিকবার হুমকি ও অপমানের অভিযোগ করে কেঁদে ফেলেন।
পপি বলেন, ‘আমি তিন বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে। সেই আমাকেও শিল্পী সমিতির একটা লোকের নানা খারাপ কাজে সমর্থন না দেওয়ায় সদস্যপদ বাতিল করার চিঠি দেওয়া হয়। আমার মতো একজন শিল্পীর জন্য এটা অনেক বড় অপমান। এ সময় শিল্পী সমিতিকে নোংরা ব্যক্তিদের হাত থেকে উদ্ধার করার আহ্বান জানিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন ও নিপুণ প্যানেলের জন্য ভোট চান পপি। পপি বলেন, আমি জানের ভয়ে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। পরিবেশ ভালো হলে, এই নোংরা মানুষগুলো সরে গেলে আবার কাজ করব।
স্থগিতাদেশ দেয়নি হাইকোর্ট
আগামীকাল ২৮ জানুয়ারি শুক্রবার অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। অর্থাৎ এই নির্বাচনে উচ্চ আদালতের কেনে স্থগিতাদেশ নেই। গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথি। আবেদনকারী শিল্পীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। পরে অরবিন্দ কুমার রায় জানান, আদালত চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দেয়নি। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া শিল্পীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি হওয়া রুল শুনানির জন্য প্রস্তুত হলে আদালত তা শুনবে। এ ছাড়া ঐ রুলে আরো ৮৭ জন শিল্পীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আদালত।
এর আগে, কেনে নোটিশ ছাড়াই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ১৬ সদস্যকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। খোরশেদ আলম খসরুসহ ১৬ জন শিল্পীর দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ জানুয়ারি বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
