করোনার প্রভাবে কাপ্তাইয়ে পর্যটক কমে গেছে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:৪০

কাপ্তাই উপজেলায় বিনোদনকেন্দ্রগুলো খোলা থাকলেও পর্যটকের উপস্থিতি কমে গেছে। সারা দিনে হাতেগোনা কয়েক জন পর্যটক আসলেও তারা খুব বেশি সময় অবস্থানও করছেন না। এতে বিপাকে পড়েছেন বিনোদনকেন্দ্রগুলোর আশপাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সরজমিনে দেখা গেছে, এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আনারস, পেঁপে, জাম্বুরা, কলা, ডাব, লেবু, কলা, বরই, আমলকি ইত্যাদি কিনে বিক্রির জন্য বিনোদনকেন্দ্রগুলোর সামনে পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। কিন্তু বিক্রি না হওয়ায় তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সরেজমিনে উপজেলার অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট এবং জীবতলী লেকশোর পিকনিক স্পটে প্রায় ২০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে দেখা গেছে পসরা সাজিয়ে অলস বসে আছেন। আলো চকমা নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, তিনি রাঙ্গামাটি কুটির শিল্প থেকে চাদর, সোয়েটার, মাফলার ইত্যাদিও বিক্রির জন্য কিনে এনেছেন। স্বাভাবিক সময়ে লোকজন ভরপুর থাকত এসব বিনোদনকেন্দ্রে। তখন তাদের সব মালামাল বিক্রি হয়ে যেত। এখন পর্যটক না থাকায় তাদের মালামাল বিক্রি হচ্ছে না। যার ফলে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উমেচিং মারমা বলেন, করোনার প্রভাবে মানুষ বিনোদনকেন্দ্রে কম যাতায়াত করছেন। আর যারা আসছেন তারা কিছু কেনাকাটা না করায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মালামাল বিক্রি করতে পারছেন না। তবে এই পরিস্থিতিকে সাময়িক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, দ্রুতই সংকট কেটে যাবে। পর্যটনকেন্দ্রেগুলোতে আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, এলাকায় কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আছেন যারা পর্যটনকেন্দ্র নির্ভর ব্যবসা করছেন। পর্যটনকেন্দ্রে যারা ভ্রমণে আসেন তারাই এদের আসল ক্রেতা। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এখন সমস্যা হলেও এই অচলাবস্থা বেশিদিন থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা বিকিকিনি করতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের প্রশাসনিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তাদের পণ্যসামগ্রী এলাকার সাধারণ জনগণ যাতে কিনতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেই প্রচেষ্টা থাকবে বলেও তিনি জানান।

ইত্তেফাক/ ইআ