বিনম্র প্রশ্ন
কাজী মাহমুদুর রহমান
বলেছেন গুণীজন, চেয়ো না আগুন কোনো রমণীর কাছে
চেয়ো না তৃষ্ণার জল কোনো রমণীরে ভালোবেসে।
চেয়ো না নারীর কাছে লালিমা ডালিম কিংবা দ্রাক্ষারস
ওখানেই ওত পেতে বসে আছে প্রাচীন সর্বনাশ,
মুহূর্তেই সে নিয়ে যাবে ঈশ্বরের অলৌকিক বাগানে
সুশোভিত ঘাসের শঘ্যায় আদম-হাওয়ার মতো
তুমুল রমণে।
বলেছেন বিজ্ঞজন,
চেয়ো না নারীর কাছে শাসনের রাজছত্র,
তার কস্ত্তরী নাভি, তার ময়ূর সিংহাসন।
যদি হতে চাও প্রিয়, তবে রাজা নয়, তুমি হও তার
অনুর্বর ক্রীতদাস যাবজ্জীবন।
যখন উষ্ণ যৌবন, দেহে যদি জাগে ভীষণ মৃত্যুক্ষুধা,
চাও রণভূমি—বল্লম কিংবা বন্দুকের গর্জিত দ্রোহকথা,
পথে পাথর কাঁটা, পায়ে রক্তছাপ, দেহ ক্ষত-বিক্ষত,
তবুও ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মতন হেঁটে যাও অবিরত।
বলেন হে সুধীজন, আমি এখন কার কথা শুনি?
চাঁদের চুল্লিতে ছাই হতে কার স্বপ্নযানে করি ভ্রমণ?
বলেন হে রমণীগণ, জ্ঞানী কিংবা মূর্খজন।
শরাবের গ্লাসের মতো
রফিকুল নাজিম
ইদানীং পার্টিতে গিয়ে কেউ ভরপেট খায় না
রাজসিক টেবিলে খাবার এঁটো করা
একধরনের স্মার্টনেসের পর্যায়ে পড়ে,
তিন আঙুলে খাবার নাড়াচাড়া করতে করতে
অর্ধেক খাবার প্লেটে রেখে উঠে যেতে হয়
এঁটো খাবার ও প্লেট আভিজাত্যের সূচক,
গ্লাসে রেখে যাওয়া অবশিষ্ট জল কিংবা রঙিন শরাব
উঁচু তলার মানুষের ব্যক্তিত্বের অলংকার!
ইদানীং তোমার ব্যক্তিত্বও উঁচুদের উঁচুতে ঝুলছে
তোমার আধ খাওয়া শরাবের গ্লাসের মতো আমি,
তলানিতে জমা মায়াটুকু ফেলে যাও উচ্ছিষ্টের ডাস্টবিনে...
[হবিগঞ্জ]
সেই সময় এই সময়
তৃপ্তি বালা
‘তুমি যে আমার কবিতা...’ বললে তুমি।
সেই তো, কবিতাই তো আমি।
তখনো কবিতা আসেনি তোমার মনে
সেই যে কতকাল আগে শুনিয়েছিলাম কবিতা
কলেজ ক্যাম্পাসে
তুমি ছিলে শ্রোতা একনিষ্ঠ—
হয়তো সেই থেকেই মনে তোমার দানা বেঁধেছে
কবিতা হয়ে উঠেছে ধীরে-ধীরে, পূর্ণ অবয়বে,
জানতে পারিনি...
কিংবা যখন পারলাম, সময় পেরিয়ে গেছে—
কবিতা থেকে তখন পা রেখেছি উপন্যাসে...
আজ আবার কতকাল পর শোনালে সেই কবিতাখানি।
তোমারই লেখা সঙ্গোপনে বয়ে বেরিয়েছ—
যা কালের ধূলায় ম্লান হয়নি এতটুকুও।
আজ তুমি কবি আমি শ্রোতা একনিষ্ঠ
মনেতে আমার কবিতার পাঠ— সেদিনের...
[ঢাকা]
