মৃত্যুদণ্ড এড়াতে পালিয়েছিলেন ২০ বছর

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৫০

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২০ বছর ধরে পলাতক আসামি সৈয়দ আহমেদকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর আকবর শাহ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় র‍্যাব-৭। গ্রেফতার সৈয়দ আহমেদ লোহাগাড়া থানার আমিরাবাদ এলাকার ইয়াকুব মিয়ার ছেলে।

র‍্যাব জানায়, ২০০২ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় জানে আলম নামে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই জানে আলম হত্যা মামলার রায়ে আদালত ১২ জনকে ফাঁসি এবং আট জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। রায়ের বিরুদ্ধে  সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে সৈয়দ আহমেদসহ মোট ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। জানে আলমকে হত্যার মাত্র চার মাস আগে ২০০১ সালের ৯ নভেম্বর তার ছোট ভাইকেও একইভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় ১৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছিল। ঐ মামলাতেও সৈয়দ আহমেদ ২ নম্বর আসামি ছিলেন। আগামী মাসে এ মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে।

র‍্যাব জানায়, গত ২০ বছরে ধরে পরিবার পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন না সৈয়দ আহমেদ। নিজের নাম পরিবর্তন করে তিনি দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। হত্যার পর থেকে তিনি কখনো ছিলেন মাজারের বাবুর্চি, কখনো দারোয়ান, কখনো জলদস্যু দলের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে নৌযানে ডাকাতিও করেছেন। দুই ভাইকে হত্যার আগে থেকেই সৈয়দ বাহিনী নামে একটি সন্ত্রাসী দল গঠন করে এলাকায় বিভিন্ন মারামারিতে নেতৃত্ব দিতেন আটক সৈয়দ আহমেদ।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, ব্যবসায়ী জানে আলম হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ তিনি তার ছোট ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন। মূলত জানে আলম পরিবারের বড় ছেলে এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকায় মামলার ব্যয়ভার তিনি বহন করতেন। এ কারণে তার ওপর সৈয়দ বাহিনীর আক্রোশ বেড়ে যায়। তাদের ধারণা ছিল, জানে আলমকে হত্যা করলে ঐ পরিবারের মামলা চালানোর কোনো লোক থাকবে না এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষীও থাকবে না।

ইত্তেফাক/ ইআ