মিরসরাইয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কয়লা গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এখানকার ৯০টি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে এবং না দিলে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগী লোকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়ি দুর্গম জনপদে বসবাস করে প্রায় ৯০০ পরিবার। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর অধীনে প্রথম ধাপে এখানকার ৯০ পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অথচ প্রক্রিয়ার শুরুতেই এসব পরিবার থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইউএনওকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলাম ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। বিদ্যুৎ সংযোগের আগে ঘর ওয়ারিং করার জন্য ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলাম ছাড়া অন্য কাউকে ওয়ারিং করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া এলাকার লোকজন চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর সভাপতি জাবেদ ইকবালকে এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ দিলে উলটো তিনি এলাকার লোকজনকে হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে গত ২৩ জানুয়ারি কয়লা গ্রামবাসীর পক্ষে মো. হানিফ ও মোহাম্মদ আলমগীর নামে দুই ভুক্তভোগী ইউএনও মো. মিনহাজুর রহমানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নূর মোহাম্মদ আজম মজুমদার জানান, ‘একটি সংযোগে প্রতি কিলোওয়াট ফি ৪০০ টাকা। কিলোওয়াট বাড়লে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বাড়বে। এছাড়া আবেদন ফি ১১৫ এবং সদস্য ফি ৫০ টাকা। এর বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ অবশ্য এ বিষয়ে কথা বলতে ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এবং গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেননি।
তবে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর সভাপতি জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। অফিস খরচ নেওয়া হচ্ছে ৯৬৫ টাকা। এছাড়া রড, কাটাউট বাবদ বাকি ৫৩৫ টাকাসহ মোট ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।’ গ্রাহকদের হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গে জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘কেউ আমাকে বিষয়টি জানায়নি। হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এ ধরনের প্রমাণ কেউ দিতে পারলে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিব।’ ঘরের ওয়ারিং ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুলকে দিয়ে করতে হবে, না হয় বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে না এমন অভিযোগের বিষয়ে জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘ঐ এলাকায় তিন জন ইলেকট্রিশিয়ান রয়েছেন। আমরা তাদের তিনটি এলাকা ভাগ করে দিয়েছি।’ এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর ডিজিএম নূর মোহাম্মদ আজম মজুমদার জানান, ‘ওয়ারিংয়ের বিষয়টি গ্রাহকদের একান্ত ব্যাপার। তারা বিদ্যুৎ বিভাগের যে কোনো ইলেকট্রিশিয়ানকে দিয়ে করতে পারবেন।’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। আগামী ৩১ জানুয়ারি উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় এ বিষয়টিও আলোচ্যসূচির মধ্যে রাখা হয়েছে। সেখানে জনপ্রতিনিধি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
