গন্তব্য বদলে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি ভিড় করছে সৈয়দপুরে। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সৈয়দপুর বাইপাস সড়কের পাশে ধলাগাছ এলাকার সুখীপাড়ার একটি বিল। এই অতিথি পাখির দেখা পেতে প্রতিদিন পর্যটক ভিড় করছে।
সৈয়দপুর শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ধলাগাছ সুখীপাড়া মোড়ের পাশে অধুনালুপ্ত অনির্বাণ ম্যাচ ফ্যাক্টরি। ঐ ফ্যাক্টরির পাশ ঘেঁষে তিন একর জমিতে রয়েছে সুখীপাড়া বিল। ঐ বিলে বিচরণ করছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। এলাকার লোকজন বলছে গত তিন বছর ধরে বিলটিতে শীতকালে অতিথি পাখির আগমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাজার হাজার কিলোমিটার আকাশপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জলাশয়ে শীতকালে ভিড় জমায় পরিযায়ী পাখি। দেশের বিভিন্ন নীরব জলাশয়ে শীতের পাখিরা আসে।
সুখীপাড়ার বিল এলাকায় কথা হয় পাখি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিযায়ী পাখিগুলো আসে মূলত উত্তরের দেশ থেকে। বিশেষ করে নেপাল, সাইবেরিয়া, মঙ্গলীয়া, চিনের জিনজিয়াং ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে বাংলাদেশে। সুখীপাড়া এলাকায় পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে আমরা নানামুখী সচেতনতামূলক কাজ হাতে নিয়েছি। জনগণের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। বিল এলাকায় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। যাতে পাখি শিকার না করা হয়। এজন্য জনগণের সঙ্গে কথা বলছি আমরা। বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জলাশয়টি ব্যক্তিমালিকানাধীন। শীতকালে পাখির অবস্থান সময়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন জলাশয়ের মালিক। সেখানে মাছ চাষ বা চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। এ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিনের সঙ্গেও কথা হয়। তিনি বলেন, গন্তব্য বদলে শীতের পাখিরা সৈয়দপুরে আসছে। এলাকাবাসী হিসেবে আমি গর্বিত। লক্ষ্য রাখতে হবে কেউ যেন এসব পাখি শিকার না করে। পাখি সংরক্ষণে উপজেলা পরিষদ সর্বাত্মক সহযোগিতা দিবে বলে জানান তিনি।
সৈয়দপুরের সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলামের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়। তিনি বলেন, জলাশয়টি পরিদর্শন করেছি। প্রচুর বিদেশি পাখি এসেছে সেখানে। এলাকাটি পাখির কলকাকলিতে মুখর এখন। জলাশয়টিতে পাখিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের যোগান রয়েছে। এখন প্রয়োজন সুষ্ঠু তদারকি।
