উন্নয়নে সমন্বয়হীনতায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে সাভার

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:১৪

রাজধানীসংলগ্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক সাভার উপশহর। এ শহরে শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, বিনোদনকেন্দ্রসহ নানাবিধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সাভারের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। 

ভৌগোলিক কারণেই ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে সাভার পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক, শিল্প ও আবাসিক এলাকায়। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছে সাভার। এ যেন ঢাকার পাশে আরেক ঢাকা। তবে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও সমন্বয়হীনতার অভাবে সাভার উপশহরের সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মৃতি বিজড়িত জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার সেনানিবাস, ডিইপিজেড, বিএলআরআই, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্র, ডেইরি ফার্ম, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ট্যানারি শিল্পনগরী, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস গড়ে উঠেছে এ উপজেলায়। 

বংশী, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত সাভারের ইতিহাস ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানী এ সাভার। কথিত রয়েছে ‘সম্ভার’ থেকেই সাভার নামের উত্পত্তি। পৌর এলাকার রাজাশনে হরিশচন্দ্র রাজার বাড়ির ধ্বংসাবশেষে সেই স্মৃতি বিজড়িত। এলাকাটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে সংরক্ষিত। সাভার উপজেলাটি একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত। এ অঞ্চলে প্রায় ৫০ লাখ লোকের বাস। জাতীয় উন্নয়নে সাভারের ভূমিকা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

এখানে রয়েছে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড)। সাভারের আশুলিয়া থানায় অবস্হিত এই রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলটি ১৯৯৩ সালে স্হাপিত হয় এবং ১৯৯৭ সালে এতে আরও একটি সম্প্রসারিত অঞ্চল যুক্ত করা হয়। ৩৫৬.২২ একর এলাকার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই ডিইপিজেড। 

এখানে উত্পাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, কাপড়, খেলনা, সোয়েটার, কম্বল, ক্যাপ, জার্সি প্রভৃতি। ঢাকা ইপিজেড থেকে রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৭৮০.৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিগত ছয় বছরে বেপজা বিনিয়োগে ১২৯.৫৫ শতাংশ, রপ্তানিতে ১৫৫.৯৫ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ১১২.৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ইত্তেফাক/এএএম