বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১৮টি হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিবার (৩০ জানুয়ারি)। স্বাভাবিক সময়ে হলে এ সম্মেলন হতো ব্যাপক জাঁকজমকপূর্ণ। সাজানো হতো অপরাজেয় বাংলা, উৎসব চলতো ছাত্রলীগের হলের নেতাকর্মী সবার মাঝে। কিন্তু এবার কোভিড পরিস্থিতির কারণে সম্মেলন হয়েছে কিছুটা ভিন্নভাবে। করোনা সংক্রমণের কারণে এবার সম্মেলনে কর্মীদের রাখা হয়নি, যা সম্মেলনের ঐতিহ্যের ব্যতিক্রম। কেবল অতিথি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের পদপ্রত্যাশী এবং গণমাধ্যমকর্মীরাই এতে অংশ নিয়েছেন। প্রবেশ করার সময় দেখাতে হয়েছে করোনার টিকার সনদ।
দীর্ঘ ৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনকে ঘিরে নানা জল্পকল্পনা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) অভ্যন্তরে স্থাপন করা হয় মঞ্চ। ব্যানার ও পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হলে হলে। বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। সভাপতিত্ব করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার জন্য উপস্থিত হতে পারেননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমাদের উত্থান। আমি নিজেই শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্ররাজনীতির অংশ ছিলাম। আমি যখন ছাত্রলীগ করতাম তখন সব ছাত্রদের রুমে রুমে যেতাম। আপনারা যারা প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি হবেন, বাকিদের সাথে আপনাদের সুসম্পর্ক থাকতে হবে। এটাই ছাত্রলীগের আদর্শ। তখন নেতাকর্মী আর শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মার সম্পর্ক ছিল, সেটাকে যুগ যুগ ধরে রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ৫২ তে রক্ত দিয়েছে। ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আপনারাই করেছেন। যত ষড়যন্ত্র ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিই আসুক আপনাদেরকে তাদের প্রতিহত করতে হবে। আপনাদের এগিয়ে চলার পথে একজন প্রাক্তন কর্মী হিসেবে যদি আমি কোনোভাবে পাশে দাঁড়াতে পারি তবে নিজেকে ধন্য মনে করব।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহউদ্দিন নাসিম বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো, তারাই বিএনপির বন্ধু। আমরা কীভাবে বিশ্বাস করি যে, তাদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়া যায়? তারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে বিশ্বাস করে এটা আমরা কীভাবে বিশ্বাস করি? যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদেশে অপপ্রচার করে, যারা বিদেশে লবিস্ট নিযুক্ত করে, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে তাদের কবর রচনা করতে হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস নতুনদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সবাই নেতা হতে পারবেন না। এতে আপনারা ব্যথিত হবেন না। নেতা হওয়াই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, সংগঠনকে এগিয়ে নিতে সকলকে কাজ করতে হবে। আপনারা যারা বিভিন্ন পদে থাকবেন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেবেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাদ্দাম হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার হাতকে শক্ত করে আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য উপযোগী ছাত্রনেতৃত্ব গড়ে তুলবো। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শুধু ছাত্রনেতা হলে চলবে না, তাদের সফল পেশাজীবীও হতে হবে। তাদেরকে বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী ও উদ্যোক্তা হতে হবে এবং অন্যান্যদের চাকরি দিতে হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে ছাত্রলীগকে আলো হয়ে থাকতে হবে।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।
