চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু থেকে হু হু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে প্রথমে বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহনে ভাড়া না বাড়িয়ে অর্ধেক যাত্রী বহনের কথা বলা হয়।
কিন্তু পরে পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের দাবির মুখে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে ‘যত আসন তত যাত্রী’ বহনের বিষয়টি মেনে নেয় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রাজধানীর বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির সেই নিয়ম মানা তো হচ্ছেই না, বরং অন্য সময়ের মতোই গাদাগাদি করেই চলাচল করছে যাত্রীরা। তবে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
গতকাল রাজধানীর আজিমপুর, নিউ মার্কেট, শাহবাগ, ফার্মগেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাসের সব আসন পূর্ণ থাকার পরও যাত্রীরা দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যে। আবার কোনো কোনো বাসে দরজায় ঝুলেও যাত্রীদের চলাচল করতে দেখা গেছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেখা যায়নি অধিকাংশ পরিবহনেই।
আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া ভিআইপি ও বিকাশ পরিবহনের প্রতিটি বাস আসন ভর্তি হওয়ার পরেও দাঁড়িয়ে যাত্রী নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে আজিমপুর হয়ে চলাচলকারী বাস মৌমিতায়ও একই অবস্থা দেখা গেছে।
অধিক যাত্রী নেওয়া, স্বাস্থ্যবিধি না মানা, স্যানিটাইজার ব্যবহার না করাসহ সরকারি নিয়ম ভাঙার কারণ হিসেবে একে অপরকে দোষারোপ করছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা। সাভার পরিবহনের চালকের সহকারী মিজান বলেন, ‘প্রতিটি স্টপেজে অনেক মানুষ বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। এদের না নিতে চাইলেও জোর করে বাসে উঠে যায়। বাধা দিলেও শোনে না। আমাদের কিছুই করার থাকে না।’ কিন্তু যাত্রীরা বলছেন ভিন্ন কথা। সাভারের যাত্রী ইকরাম বলেন, ‘যাত্রী ওঠার পরও বিভিন্ন স্টপেজে গাড়ি থামিয়ে ওরা যাত্রী তোলে। এমনকি দাঁড়িয়েও যাত্রী নেয়। আমরা বাসশ্রমিকদের কাছে জিম্মি হয়ে আছি।’
যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, হেল্পার, ড্রাইভার দিয়ে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনটেইন করা সম্ভব নয়। এটা কোনো সংস্থার হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। স্টপেজে যাত্রী মাস্ক পরে উঠছে কি না, যাত্রীদের হাতে স্যানিটাইজার দেওয়ার ব্যবস্থা আছে কি না খোঁজ রাখতে হবে। যাত্রী নামানোর পরে একটা পয়েন্টে বাসগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে পরিচ্ছন্ন করতে হবে।
কাগজে-কলমেই ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’
রাজধানীর মিরপুরের ‘নিউ মার্কেট শপিংমল’-এর ভেতরে-বাইরে বড় হরফে লেখা ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’। অথচ মার্কেটের ফটকে মাস্ক না পরে ঢোকার সময় কাউকে বাধা দিতে দেখা যায়নি। গতকাল সকালে মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্রেতা মাস্ক ছাড়াই মার্কেটে ঢুকছেন। অনেকে আবার মার্কেটে ঢুকেই মাস্ক খুলে পকেটে রাখছেন। মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী আনোয়ার হোসেন জানালেন, ক্রেতাদের মাস্ক পরে প্রবেশের কথা বললেই খারাপ ব্যবহার করে। তবে আগের চেয়ে মাস্ক পরার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে।
শুধু এই মার্কেটই নয়, মিরপুর ১০ ও ২ নম্বরের অধিকাংশ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে কিছু মার্কেট ঘুরে। সনি স্কয়ার মার্কেটসহ বেশ কিছু ফ্যাশন হাউজের শোরুমে মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে গেলে বাধা দিতে দেখা গেছে। সনি স্কয়ারের নিরাপত্তাকর্মী সাইদুর রহমান বলেন, অনেকেই মাস্ক ছাড়া আসছেন। তাদের মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষেধ জানানো হচ্ছে। বাইরে থেকে কিনে মাস্ক পরে তারপর প্রবেশ করছে।
