বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে এবার ব্যতিক্রমী আন্দোলনে শাবির শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ১০:২৭

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থীরা এবার ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে ব্যতিক্রমী আন্দোলন শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা রবিবার সন্ধ্যায় আয়োজন করেন ‘গীতি আলেখ্য’ নামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। গানের তালে তালে নাটকের মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই ছিল এর মূল বিষয়। এছাড়া শাবি ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এ কর্মসূচি। গতকাল রবিবারও চলেছে।

এর আগে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে তারা আমরণ অনশন ও অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। পরে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা ও আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শাবির প্রাক্তন শিক্ষক দম্পতি অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমিন হকের প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা অনশন ভঙ্গ করেন।

‘চাষাভুষার টং’ স্থাপন :আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল শাবিতে টং সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা। যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বল্পমূল্যে খাবার খেতে পারত। উন্মুক্ত পরিবেশে শিল্প-সংস্কৃতি-যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করতে পারত। যেটা প্রায় দুই বছর হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বন্ধ করে দেয়। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রশাসনের প্রভাব কমতে থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় টং-দোকান স্থাপনের উদ্যোগ নেন। শনিবার সন্ধ্যা হতে তারা টং-দোকান স্থাপনের কাজ শুরু করেন। এসব টং-এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘চাষাভুষার টং’।

‘চাষাভুষার টং’

শাবির টিলায় আগুন, পালটাপালটি বক্তব্য : শাবির হলগুলোর পার্শ্ববর্তী টিলাসমূহে আগুন লেগে প্রায় এক একর জায়গার গাছপালা পুড়ে গেছে। শনিবার বিকাল ৪টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে এমনটাই দেখা যায়। শাবি রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরে সাধারণত টিলার ঝোপঝাড়ে আগুন লাগত। কিন্তু এবছর আমাদের লাগানো গাছগুলোকে লক্ষ্য করে আগুন লাগানো হয়েছে। এ বিষয়ে  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভাবছে। এছাড়া এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হিসেবেও দেখছেন শাবি রেজিস্ট্রার।

এদিকে আন্দোলন চলাকালীন এ ঘটনাকে শিক্ষার্থীরাও পরিকল্পিত হিসেবে দেখছেন। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানান, এর আগেও আমরা দেখেছি বর্তমান উপাচার্যের নির্দেশে কীভাবে ক্যাম্পাসে টিলা কেটে, বনজঙ্গল উজাড় করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। টিলা সংলগ্ন এলাকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সিসি ক্যামেরা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। আমরা এই প্রাণ-প্রকৃতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি। এই জঘন্য কাজে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। 

ইত্তেফাক/ ইআ