জামায়াত-শিবিরের ১৫৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৪, ১২:১২
দ্রুত বিচার আইনে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জামায়াত-শিবিরের ১৫৪ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মঈনুল ইসলাম ভুঁইয়া আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এছাড়া আদালতে হাজির না থাকায় ৭৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একইসঙ্গে আগামী ১২ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। গতকাল মামলার আসামি জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সাবেক শিবির নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মোট ৬০ জন নেতাকর্মী আদালতে হাজির ছিলেন। এ আসামিরা সবাই জামিনে আছেন। ৭৮ জনের পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। মামলার শুরু থেকেই ১৬ জন পলাতক।
নথিসূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. ফখরুদ্দিন মানিকসহ ১৫৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলায় বলা হয়, গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা থেকে ১২টার মধ্যে একযোগে মতিঝিল থানা এলাকার শাপলা চত্বরে, মতিঝিল ট্রেড সেন্টরের সামনে, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, দৈনিক বাংলা মোড় ও ফকিরাপুল মোড় এলাকায় অতর্কিতভাবে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীসহ ৫০০/৬০০ উচ্ছৃংখল লাঠিসোটা, ইটপাটকেল নিয়ে বেআইনীভাবে জামায়াতের নেতা দেলোয়ার হোসেন সাইদীর মুক্তি ও মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলসহ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও জনমনে আতংক সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিরোধী জঙ্গী মিছিল বের করে। এ সময় তারা দফায় দফায় ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে পুলিশের কর্তব্য-কাজে বাধা সৃষ্টি করে। ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ হত্যার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমি-শনার (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান (পিপিএম)কে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করলে মেহেদী হাসানসহ অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন। এসময় তারা ৭/৮টি গাড়ী ভাংচুর করে।
আসামিদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের কাজে বাধা ও ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দুইটি মামলা করে পুলিশ। একটি দ্রুত বিচার আইনে এবং অন্যটি দণ্ডবিধিসহ বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়। দুই মামলার ঘটনাস্থল, আসামি এক এবং অভিন্ন। দ্বিতীয় মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন একই আদালত।