ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, এখন অপরাধ করে কেউ পার পেতে পারবে না। দেশের ব্যাংকিং খাত কিছুটা অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটালেও এখন এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সিয়েনজা গভর্নর’স সিম্পোজিয়াম-২০১৪’ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। এবছর সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- ‘মাইক্রোইকোনমিক ইনভাইরনমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর স্ট্যাবিলিটি: ভালনারেবল অ্যান্ড ম্যানেজিং ক্রাইসিস’।
অনুষ্ঠানে গভর্নর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সিয়েনজা ফোরামের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস.কে সুর চৌধুরী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. যুবরাজ খাতিওয়াদা এবং বাংলাদেশ, কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও পাকিস্থানের ডেপুটি গভর্নর ছাড়াও ১৪টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ২৯ জন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমেরিটাস ড. পিটার সিনক্লেয়ার সম্মেলনে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বিভাগ সম্মেলনের সার্বিক পরিচালনা ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
ড. আতিউর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতে যে বিশৃঙ্খলা ছিল তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনিয়ম দুর্নীতির দায়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দিয়ে পুর্নগঠন করা হয়েছে। তাছাড়া কিছু নির্বাহীদের বিপুল অঙ্কের অর্থ জরিমানাও করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে একধরনের শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। তিনি বলেন, আর্থিক খাত এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার বিষয় মাথায় রেখেই বাংলাদেশের রাজস্ব ও মুদ্রানীতির নীতিনির্ধারকরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় স্থাপনের মাধ্যমে রাজস্ব এবং মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে থাকেন। সফল নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যষ্টিক পর্যায়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকির পাশাপাশি সামষ্টিক পর্যায়ে গোটা আর্থিক খাতের পদ্ধতিগত বলিষ্ঠতা নিশ্চিতকরণের জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে ব্যাসেল-২ এর নীতিমালা পরিপালনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাসেল-৩ এর নীতিমালা পরিপালনের জন্য উত্সাহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।
এস.কে সুর চৌধুরী বলেন, মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি সুস্থ ও মসৃণ আর্থিক খাতের গুরুত্ব অপরিহার্য। এ খাতের দুর্বলতা একদিকে মুদ্রানীতির প্রয়োগকে যেমন জটিল করে তোলে, তেমনি অন্যদিকে অর্থনীতির বাহ্যিক অভিঘাত সমূহের কারণে মুদ্রানীতিতে প্রয়োজনীয় উপযোজন করার ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে রাখে। এ কারণে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাকে রক্ষার জন্য দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে বিচক্ষণ নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ অপরিহার্য বলে তিনি জানান।
