রাজধানীর মগবাজারের সোনালীবাগে তিন খুনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামি কালা বাবুর দুই সহযোগী সোহেল খান (২৮) ও আরিফকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের ৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে নিহত রানু বেগম বৃষ্টির ভাই শামীম ওরফে কালাচান বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে রমনা থানায় একটি মামলা করেন। ডিবির হাতে গ্রেফতারকৃত সোহেল ও আরিফ মামলায় অভিযুক্ত ১০ ও ১২ নম্বর আসামি।
রিমান্ডে নেয়া সোহেল ও আরিফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান গ্রুপের অন্যতম ক্যাডার শোভন। জিসান বর্তমানে দুবাইতে আত্মগোপন করে মগবাজার এলাকার চাঁদাবাজি শোভনকে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই কিলিং মিশন চালানোর সময় তাদের কাছে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এর মধ্যে কালা বাবুর হাতে ছিল অত্যাধুনিক সিজেডথ্রি পিস্তল। এই পিস্তলটি বাবুকে দিয়েছিল শোভন। তাদের মিশনে এই আগ্নেয়াস্ত্রের যোগানদাতা শোভনের একজন বড় ভাই রয়েছে। ঐ বড় ভাই তাদের মগবাজার এলাকায় আশ্রয় দেয়। এই মিশনে কালা বাবু, শোভন, মারুফ, মোশারফ, আলামিন, বিল্লাল, জনি, সোহেল ও আরিফসহ ১০-১২ জন অংশ নিয়েছিল।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল জানান, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও জমি দখলের বিষয়গুলোকে সামনে রেখে এই তিন খুনের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ ও সোহেলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে কালা বাবুকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মগবাজারের সোনালীবাগে রেলওয়ের সোয়া এক কাঠা জমির ওপর ৫টি টিনশেড ঘর দখলকেন্দ্র করে কালা বাবুর গ্রুপ গুলি করে রানু বেগম বৃষ্টি (৩০), বিল্লাল ও মুন্নাকে হত্যা করে।
ইঅ/চৌফে/শ২৫৮
