খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী

আন্দোলনের নামে খুন করেও তার নেশা কাটে না

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪১
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আমার ভাগ্যেও কী ঘটতে পারে-তা জেনেই বাংলার মাটিতে পা রেখেছি এবং কাজ করে যাচ্ছি। একদিনে বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে হারিয়ে একবুক বেদনা ও বুকে পাথর নিয়ে এদেশে ফিরেফিলাম। গ্রেনেড-বোমা হামলা, গুলিসহ বারবার আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। আমার হারাবার বা পাওয়ার কিছু নেই। মৃত্যুর ভয়ে আমি ভীত নই, মৃত্যুকে পরোয়া করি না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার ও প্রতিজ্ঞা নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম, তা যেন করতে পারি-সেজন্য দেশবাসীর দোয়া চাই।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শোকের মাস আগস্টে মাসব্যাপী গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘শোক সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 
বিকেল ৬টা থেকে আধাঘণ্টার বক্তব্যে ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের হত্যার কথা  বলতে গিয়ে প্রায় পুরো সময়েই আবেগাপ্লুত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘বিকৃত চরিত্রের ও মানসিকতার’ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তা না হলে তিনি ১৫ আগস্ট কেক কেটে জন্মদিন পালন করতে পারেন না। তাও সেই জন্মদিন সত্য নয়। এর মধ্য দিয়ে উনি এটিই বোঝাতে চান যে-তিনি ’৭৫ এর খুনিদের সঙ্গে আছেন এবং তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশে পরাজিত শক্তি আর কখনও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাদের উত্থান আরও কখনও ঘটবে না। এদেশের জনগণ তা হতে দেবে না। কারণ এই খুনি ও পরাজিত শক্তি কখনও বাংলাদেশের অস্তিত্বে ও  স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। বিএনপি-জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের মনে এখনও জ্বালা। তারা পাকিস্তানের দাসত্ব করতে চায়। পাকিস্তানের প্রতি তাদের এত প্রীতি থাকলে সেদেশে চলে গেলেই হয়, দেশের মানুষকে এত জ্বালাবে কেন? খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানের ‘দোসর’ উল্লেখ করে বলেন, এজন্য এদেশের উন্নয়ন তিনি সহ্য করতে পারেন না। জিয়া ও খালেদার লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তানের একটি প্রদেশ বানানো।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ‘হাওয়া ভবন’ বানিয়ে খালেদা জিয়া সেখানে পুত্রকে বসিয়ে দুর্নীতি ও খুন-খারাবি করিয়েছেন। যার ফলে বাংলাদেশ আবার পিছিয়ে যায়, দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। এরপর আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পায়, বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে শুরু করে। এটাই খালেদা জিয়ার মনের কষ্ট। পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর নামে তিনি পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। বাস, ট্রাক, অটোরিক্সা সবকিছুর যাত্রীদের বোমা মেরে ও পুড়িয়ে মেরেছেন। খুন করেও যেন তার নেশা কাটে না। তিনি গাছ কেটেছেন, রেললাইন উপড়ে ফেলেছেন, এমনকি গরুবাহী গাড়িতে আগুন দিয়ে গরুও হত্যা করেছেন। একাত্তরে পাকিস্তান যেভাবে এদেশের মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, একইভাবে তিনিও (খালেদা জিয়া) মানুষ হত্যা করেন। তার আন্দোলন মানেই যেন মানুষ খুন করা। ক্ষমতায় বসেও মানুষ খুন করাই যেন তার একমাত্র কাজ।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, জিয়া ছিলেন খুনি মোশতাকের দোষর। যার কারণে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন মোশতাক। খুনির সঙ্গে খুনির সম্পর্ক না থাকলে এতবড় পদে কেউ কাউকে নিয়োগ দেয়? তারা কী এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে? তিনি বলেন, পরবর্তীতে বিচারপতি সায়েমকে হটিয়ে জিয়া ক্ষমতা দখল করে নেন। তখন একেকটা ক্যু হতো, আর জিয়া আর্মি অফিসার ও রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা করতেন। 
শেখ হাসিনা বলেন, জিয়া খুনিদের ও রাজাকারদের পুরস্কৃত করেছেন এবং তাদেরকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছেন। আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া তাদের গাড়িতে রক্তাক্ত পতাকা তুলে দিয়েছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর খুনি রশীদ ও হুদাকে এমপি বানিয়ে এনেছিলেন খালেদা জিয়া। 
 প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। উন্নয়নের যে গতির সূচনা করেছি, তা অব্যাহত থাকবে। ২০২১ সালের মধ্যে এদেশ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হবে। আমি শুধু বঙ্গবন্ধুর কন্যাই নই, আমি তার আদর্শের একজন সৈনিক। তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যা করা দরকার সবই আমরা করবো।