নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন কিলিং মিশনে অংশ নেয়া র্যাব-১১ এর তিন সদস্য। আজ শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে পৃথকভাবে র্যাবের ঐ তিন সদস্য জবানবন্দি দেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে র্যাবের হাবিলদার এমদাদুল হক, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগমের আদালতে সিপাহী আবু তৈয়ব ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিনের আদালতে ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়ার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি খুবই স্পর্শকাতর। আমরা সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছি।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর বুধবার সকালে তাদের সবাইকে ৮ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এই পাঁচজন হলেন— র্যাব-১১ এর হাবিলদার এমদাদুল হক, আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক মো. হিরা মিয়া, বিল্লাল হোসেন এবং সিপাহী আবু তৈয়ব।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জবানবন্দিতে র্যাবের তিনজন আঁঁতকে উঠার মতো জবানবন্দি দিয়ে কেঁদেছেন। জবানবন্দিতে তারা জানান, শুধু চাকরি বাঁচানোর জন্যই সাত খুনের পুরো ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। ঐ সময়ে র্যাবের সদস্যরা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘কাজটি সঠিক হচ্ছে না’ বললেও তাতে কর্ণপাত করেনি তারা বরং সিনিয়র কর্মকর্তাদের প্রচণ্ড চাপ, হুমকি, ধমক আর রোষানলে পড়েই বাধ্য হয়ে সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তখন কয়েকজন এ কাজ করতে গিয়ে মানসিকভাবে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়লেও চাকরি বাঁচাতে কাউকে কিছু জানাতে পারেনি।
ইঅ/চৌফে/শ২২০
