শুন্য আড়াই লাখ পদে দ্রুত নিয়োগের তাগিদ

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৪, ১৯:১৬
প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডার, দ্বিতীয় শ্রেণী এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কমবেশি আড়াই লাখ শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দ্রুত শেষ করতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে এ তাগিদ দেয়া হয়েছে। আর  এসব শুন্য পদে নিয়োগের জন্য মোট শুন্য পদের ৯০ শতাংশ পদে নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পূর্বনুমতির বিধান আগের মতোই আছে। এজন্য নতুন করে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হবে না। 
জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০১০ সাল থেকে শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেয়ার বিধান বাতিল হয়েছে। তবে উদ্বৃত্ত জনবল নিয়োগের সুবিধার্থে মোট শুন্য পদের ১০ শতাংশ সংরক্ষনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি ৯০ শতাংশ পদ পূরনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তিনি জানান, বর্তমান বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, প্রতিষ্ঠান, এমনকি বিভাগ ও জেলা প্রশাসন থেকে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পূর্বনুমতি নেয়ার জন্য চিঠি দিচ্ছেন বা মৌখিকভাবেও জানতে চান, সেজন্য পুনরায় বিষয়টি তাদেরকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে অনেক নতুন কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন তারা সবকিছু জানতে চান সেজন্যই নতুন করে বিষয়টি সকলকে অবহিত করা হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৪ নভেম্বর এক পরিপত্রে তত্কালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয় জানায় যে, সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীনস্থ দপ্তর, অধিদপ্তর পরিদপ্তর, সংস্থা বা কার্যালয়ের রাজস্বখাতের শূন্য পদ পুরনের জন্য সংস্থাপমন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র গ্রহনের প্রয়োজন নেই। তবে ওই পত্রে বলা হয়, সরকারের আকার সীমিতকরা, ব্যয় সংকোচন, সরকার কর্তৃক কোনো পদ বিলুুপ্তির ফলে এবং ভবিষ্যত্ প্রশাসনিক পূর্ণবিন্যাসের ফলে উদ্বৃত্ত জনবল আত্মীকরনের জন্য নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণী, ২য় শ্রেণী এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর মোট শূন্য পদের ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষন করতে হবে অর্থাত্ এসব পদে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সারাদেশে আলোচ্য ক্ষেত্রে প্রায় আড়াই লাখ পদ শুন্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকলকে চাকরির সুযোগ করে দেয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে।
পক্ষান্তরে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়োগের যেসব বিধি বিধান বা প্রক্রিয়া রয়েছে তা শেষ করতেই ছয়মাস সময় চলে যায়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ, যাজাই বাছাই, পরীক্ষা্ গ্রহণ, ফলাফল ঘোষনা পর্যন্ত ধাপগুলো শেষ করতে এক বছর পর্যন্ত সময় চলে যায়। এরমধ্যে পরীক্ষা গ্রহনের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি হয়। কারণ, দেখা এক হাজার পদের জন্য আবেদন কারী থাকেন ৭ থেকে ৮ লাখ।
এতসংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য কেন্দ্র পাওয়াও দুস্কর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিবেচনায় নেয় হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্লাস পরীক্ষা থাকে সরকারের একাধিক বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষা থাকে। সেজন্য সবকিছু সমন্বয় করে সুবিধামত দিন নির্ধারন করতে অনেক সময় ব্যয় হয়ে যায়। ফলে ইচ্ছা থাকার পরে কাঙ্খিত সময়ে নিয়োগ শেষ করা যায় না। তারপর অন্যান্য কিছু বিষয় থাকে তাতে করে নিয়োগের সব প্রক্রিয়া শেষ করেও ফলাফল ঘোষনা সম্ভব হয় না। ফলে বছরের পর বছর শূন্য পদ থাকে সেই প্রতিমাসেই নতুন করে যোগ হয় শূন্য পদ ফলে বাড়তে থাকে শূন্য পদের সংখ্য সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে নিয়োগ প্রত্যাশী বা বেকারের সংখ্যা।