দুদকের অভিযান

নদী কেটে অবৈধ বাণিজ্য, আওয়ামী লীগ নেতা দণ্ডিত

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৫

নদীর মাটি কেটে অবৈধ বাণিজ্য করার অভিযোগে পৃথকভাবে চার জেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জ, মাগুরা ও পাবনায় শনিবার একযোগে চালানো এ সব অভিযানে বেশ কয়েকটি ড্রেজার জব্দ করা হয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল থেকে বেআইনিভাবে বালু উত্তোলন করার অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নান্টু বিশ্বাসকে কারাদণ্ড প্রদানসহ ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

দুদক সূত্র জানায়, পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জ, মাগুরা ও পাবনায় দুর্বৃত্তরা নদীর মাটি কেটে প্রাকৃতিক প্রবাহ ধ্বংস এবং পরিবেশ ও জনবসতির ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করছে বলে অভিযোগ জমা পড়ে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন ও দুদকের সমন্বিত টিম পৃথক পৃথক অভিযানে নামে। এর মধ্যে পাবনার ভাঙ্গুরায় গুমানী নদীর তীর কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। মাগুরা জেলার গড়াই সেতুর নিকট বালু উত্তোলন করে সেতুটিকে হুমকির মধ্যে ফেলায় ফরিদপুর থেকে দুদক টিম স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অভিযানে অংশ নেয়।
 
এদিকে, সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল থেকে বেআইনিভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন অভিযানে নামে। এ অভিযানে বালু উত্তোলন সিন্ডিকেটের হোতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নান্টু বিশ্বাসকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ডিত করে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় বেআইনিভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে দিনাজপুর থেকে দুদকের একটি টিম তেতুলিয়া গমন করে। অবৈধ পাথর উত্তোলনের ব্যবসা, ঘুষ লেনদেন ও এ অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধ অর্থ উপার্জনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ব্যাপারে তথানুসন্ধান করে। স্থানীয় প্রশাসন দুদক টিমকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে।

আরও পড়ুন: বেতন পেয়েই মদপান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪

এ সব অভিযান প্রসঙ্গে দুদকের মহাপরিচালক ও অ্যানফোর্সমেন্ট টিমের সমন্বয়ক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ অবৈধভাবে উত্তোলন এবং নদ নদী ধ্বংস করে যারা অবৈধ সম্পদের মালিক হচ্ছেন, তাদের দুর্নীতি বন্ধে এ অভিযান দুদকের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের অংশ। এ সব অপরাধে যারাই জড়িত, তাদের দুদকের আইনের আওতায় আনা হবে।

ইত্তেফাক/এমআই