সংসদে রওশন এরশাদ

ঘরেও মানুষ নিরাপদ নয়

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২১:৩০
 
বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি হঠাত্ করে অনেক বেশি খারাপের দিকে যাচ্ছে। ঘরেও মানুষ এখন নিরাপদ নয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? খুন, গুম অপহরণ করেও কারও শাস্তি না হওয়ায় এবং দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন না থাকায় এসব ঘটনা ঘটেই চলেছে। জনগণ এসব ঘটনাকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া না গেলে নির্বিচারে এভাবে খুন-গুম চলতে থাকবে।
 সোমবার সংসদে মাগরিবের বিরতির পর ফ্লোর নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন।
রওশন এরশাদ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব ও একাধিক টিভি’র ইসলামিক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নূরুল ইসলাম ফারুকীকে নিজ বাসায় জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। পরদিন মগবাজারে বাসার ভেতরে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হলো। নদীতে লাশ ভেসে উঠছে। গুলশানে একজন থেকে ৪৭ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হলো। যারা এভাবে খুন, গুম, অপহরণ ও ছিনতাই করছে-তাদের শাস্তি দেয়া হলে ভয় পেতো।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে করে তিনি বলেন, আপনি বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিন। কারণ মানুষ এগুলোকে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে ধরে। মানুষ স্বস্তিতে নেই, শান্তিতে নেই। এভাবে চলতে থাকলে মানুষের মনে জ্বালা-যন্ত্রণা সৃষ্টি হয়। যেভাবেই হোক, আইন-শৃঙ্খলা ভালো থাকতে হবে। অন্তত মানুষকে ঘরে নিরাপদে থাকতে হবে। ঘরেই যদি সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে যায় এবং গুলি করে ও জবাই করে মারে তাহলে মানুষ ভাববে, সরকার কোনো কাজ করছে না।
রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয সম্প্রচার নীতিমালা ও বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নানা বিতর্ক হচ্ছে। এগুলোর বিষয়ে একটি কমিশন গঠন করা উচিত। সম্পাদক পরিষদ নীতিমালার বিরোধিতা করেছে। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এসব করা হলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়ে সরকারকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবার রোজার ঈদে আমি নিজেও ভয় নিয়েই সেমাই খেয়েছি। টিভিতে দেখেছি, এসব সেমাইয়ে বস্তায়-বস্তায় পঁচা চর্বি ও ডালডা এবং কাপড়ের রঙ মেশানো হয়েছে। খাসির মাংস তাজা রাখতে ফরমালিন মেশানো হয়। খাদ্যে বিষ নিয়ে মানুষ খুব ভয় ও আতঙ্কে আছে। যেমন করেই হোক, খাদ্যে বিষ দমাতে হবে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির বিষয় তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ১৫টি জেলায় ১৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি, গৃহহীন। সেখানে যেসব ত্রাণ দেয়া হয়েছে তা অপ্রতুল। মানুষ না খেয়ে, অভাবে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের নদীগুলোকে ড্রেজিং করা দরকার। প্রতিটি সংসদীয় আসনেই নদীভাঙন রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ২০০১ সালে সংসদে আমি প্রস্তাব দিয়ে বলেছিলাম-এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিশন গঠন করে সমীক্ষা চালিয়ে পদক্ষেপ নেয়া হলে কার্যকর ফল পাওয়া যেতো।
পদ্মায় ‘পিনাক-৬’ লঞ্চডুবির ঘটনা টেনে তিনি বলেন, এতগুলো লাশের দায়-দায়িত্ব কার? প্রতিবছরই নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। এর আগে সাভারে রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে এখনও ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি। দেশের ২ হাজার ৫৪১টি রেলক্রসিং যেন মরণফাঁদ। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি এগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিন, দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আপনার।
রওশন বলেন, সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কীভাবে একবছর ধরে একজন বুয়া মেজর থাকতে পারলেন? কে তাকে আশ্রয় দিয়েছিল? তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। নইলে সংসদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ জেলাকে নিয়ে একটি বিভাগ গঠনের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এটা আপনাকে করতেই হবে। বক্তব্যের শুরুতে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘শোকের মাস আগস্ট শেষ হল। আপনি যে দুঃখ, কষ্ট বুকে নিয়ে ঘুরছেন সেটিকে শক্তিতে রূপান্তর করুন। আরও শক্ত হয়ে জনগণের জন্য কাজ করুন।’
রওশন এরশাদের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা সম্প্রতি এক আদিবাসী নেত্রীকে ধর্ষনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমলূক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী ফ্লোর নিয়ে বলেন, তার নির্বাচনি এলাকা বরিশালের মঠবাড়িয়ায় রকেট স্টীমার ঘাটটি ভেঙ্গে গেছে। সবশেষে তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভা্লারি ফ্লোর নিয়ে বলেন, নূরুল ইসলাম ফারুকীর খুনিদের বের করতে হবে। জঙ্গীবাদ নির্মূলেরও দাবি জানান তিনি।