বলিউডে ১০ বিদেশিনী

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৩:২৫
গত দশকে বলিউডের নায়িকা হয়ে রূপালী পর্দায় ক্যারিয়ার গড়তে অনবদ্য গ্লামারের তকমা নিয়ে অনেক বিদেশি সুন্দরী ভারতে অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দর্শক হৃদয়ে তুষ্টি যুগিয়ে বলিউডে পাকাপোক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। কেউ টিকে রয়েছেন। কেউ বা অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছেন। এখনো বিদেশি অনেক মডেলই ঝুঁকছেন বলিউডি হাওয়ায় নিজেকে মেলে ধরে ক্যারিয়ার গড়তে। বলিউডের বিদেশি নায়িকাদের মধ্যে ১০ জনকে আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করেছে জিনিউজবাংলা।
এই তালিকার এক নম্বর আসনের যোগ্য দাবিদার একজনই তিনি ক্যাটরিনা কাইফ। যিনি এক দশক আগে হিন্দিও জানতেন না। সালমান খানের প্রেমিকা হিসেবে কাশ্মিরি বাবা ও ব্রিটিশ মায়ের মেয়ে ক্যাটরিনার বলিউডে আত্মপ্রকাশ। তারপর থেকে তিন খান, অক্ষয় কুমার, রনবীর কপূর, হৃতিক রোশন প্রথম সারির সব নায়কদের সঙ্গেই হিট ছবির বন্যা বইয়ে দিয়েছেন ক্যাটরিনা। আদুরি ক্যাট বর্তমানে বলিউডের চিকনি চামেলি।
ইন্দো-কানাডিয়ান পর্নস্টার সানি লিওনকে বলিউডের রূপালী পর্দার গরম মশলা বানাতে ভট ক্যাম্প ভারতে আমন্ত্রণ জানান। বলিউডে অভিষেক ঘটিয়ে ‘জিসম টু’ সিনেমাতেই সানি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন প্রথম সারিতেই থাকবেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার সুন্দরী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের আত্মপ্রকাশ ২০০৯ সালে ‘আলাদিন’ সিনেমাতে। প্রথম নজরে আসেন ‘হাউজফুল’ সিনেমাতে ‘আপকা কেয়া হোগা’ আইটেম নম্বরে। রামাইয়া ভস্তাভইয়া সিনেমাতে জ্যাকলিনের আইটেম নম্বর ‘জাদু কি ঝপ্পি’ দেখে সালমন খান ঠিক করেই ফেলেন ইতিমধ্যে ব্যবসা সফল ‘কিক’ সিনেমাতে জ্যাকলিনকেই চাই তার।
ফরাসি বাবা ও ভারতীয় মায়ের মেয়ে কল্কি কোয়েচলিন বেড়ে ওঠেছেন পন্ডিচেরিতে। প্রথম সিনেমা দেব ডি থেকেই বলিউড আপন করে নিয়েছে কল্কিকে। শয়তান, জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা, দ্যাট গার্ল ইন ইয়েলো বুটস, শাংহাই, এক থি ডায়ান সিনেমাতে দর্শকরা কল্কির অসাধারণ অভিনয় ক্ষমতা দেখেছে। দর্শক থেকে সমালোচক, সকলেই কল্কির অভিনয়ে মুগ্ধ। তার সারল্যমাখা সৌন্দর্য ও প্রতিভার কারণেই বোধহয় অন্যরকম চরিত্রের জন্য পরিচালকদের প্রথম পছন্দ কল্কি।
পাকিস্তানি বাবা ও চেক মায়ের মেয়ে নার্গিস ফকরি মার্কিন নাগরিক। প্রথম সিনেমা ‘রকস্টার’ই নার্গিসের হিরো রনবীর কাপূর। সিনেমাও হিট। তখন থেকেই পরিচালক, প্রযোজকদের নজরে পড়ে যান সুন্দরী, সেক্সি নার্গিস। এরপর মাদ্রাস কাফে সিনেমাতে নার্গিসের অভিনয় সমালোচকদের মুগ্ধ করেছে। দর্শক মনেও জায়গা করে নিয়েছেন নার্গিস।
বাবা ভারতীয় হলেও ইভলিন শর্মার মা জার্মান। বড়ও হয়েছেন জার্মানিতে। বলিউডে আসেন ২০১২ সালে ‘ফ্রম সিডনি উইথ লাভ’ সিনেমাতে। পরের বছর ‘নটঙ্কি শালা’ সিনেমাতে দর্শকদের নজরে পড়েন।
ব্রাজিলিয়ন মডেল ব্রুনা আবাদাল্লাহকে বলিউড প্রথম দেখে ২০০৭ সালে আইটেম নম্বর ‘রহেম করেত’ সিনেমায়। এরপর ২০১০ সালে ‘আই হেট লাভ স্টোরি’ সিনেমাতে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ ব্রুনার। দেশি বয়েজ ছবিতে অক্ষয় কুমার, জন আব্রাহামের সঙ্গে তার আইটেম নম্বর ‘শুভা না হোনে দে’ চিনিয়েছে সেক্সি ব্রুনাকে।
বলিউড নায়িকা মরিয়ম জাকারিয়া ইরানিয়ান অভিনেত্রী সুইডেনের নাগরিক। ২০০৯ সালে ‘পেয়িং গেস্ট’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ। তবে সকলের নজরে আসেন ২০১২ সালে সইফ আলি খানের বিপরীতে ‘এজেন্ট বিনোদ’ সিনেমায়। ‘দিল মেরা মুফত কা’ গানের সঙ্গে নাচে তিনি করিনাকে বেশ কয়েক গোল দিয়েছেন।
সুইডিশ গ্রিক অভিনেত্রী এলি আভরাম বলিউডে পা রাখেন গত বছর ‘মিকি ভাইরাস’ সিনেমায় কাজ শুরু করে। তবে তার আগেই বিগ বসের ৭-এ অংশগ্রহণ করে এলি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। ‘মিকি ভাইরাস’ হিট না হলেও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আর নজর কেড়েছে এলির নাচ, বিশেষ করে বেলি ডান্সিং। অভিনয় নিয়ে বিশেষ কিছু বলা না গেলেও আগামী দিনে আইটেম গার্লদের তালিকায় এলি উপরের দিকেই থাকবেন সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই কারও।
বলিউডে বিদেশি সুন্দরীদের তালিকায় নতুন সংযোজন হুমাইমা মালিক। পাকিস্তানের মডেল অভিনেত্রী বলিউডে অভিষেক ঘটান ইমরান হাসমির বিপরীতে ‘মিস্টার নটবরলাল’ সিনেমার মধ্য দিয়ে। বক্সঅফিসে সিনেমা সাফল্য না পেলেও সৌন্দর্য ও সারল্যে হুমাইমা দর্শকদের নজর কেড়েছেন।