পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আমাদের দুর্বলতাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৭:৪৪
 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন,জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য শুধু অন্য দেশকে দোষ দিলেই হবে না। পরিবেশ দূষণ রোধে আমাদের কর্মকাণ্ডগুলোকেও বিবেচনায় নিয়ে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। এ কাজটি করতে পারলে দাতাসহ উন্নত দেশগুলোর কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। তিনি বলেন, অনেকের মতে, আমাদের দেশ ছোট। কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের দেশ মোটেই ছোট নয়। আমাদের দুর্বলতাকে শক্তিতে রুপান্তর করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়ন করার মাধ্যমে এ কাজটি আমরা সহজেই করতে পারি। আমরা অনেক বড় বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারি বলেই আমাদের পক্ষে যে কোন কাজ করা সম্ভব।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি ও বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। পরিবেশ দূষণের যে ক্ষতি তা নির্দিষ্ট কোন দেশের নয়। এটি সারা পৃথিবির জলবায়ুকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে এ সমস্যাকে সম্মিলিতভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। কোন একটা দেশের পক্ষে এই সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সুদীর্ঘকাল থেকে আমরা বিদেশী অর্থ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছি। কিন্তু অতীতে আমরা যেমন পরনির্ভরশীল ছিলাম এখন তা অনেকটা কমে এসেছে। আমরা নিজেদের অর্থায়নে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করছি। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন অনেক সুদৃঢ়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের যেভাবে বদলি করা হয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়েও একইভাবে করা হয়। অথচ এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দেশে বিদেশে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তাদেরকে বদলি করা হয় পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বা অন্য কোন মন্ত্রণালয়ে । এর ফলে ওই কর্মকর্তারা তাদের অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করার সুযোগ পান না। অন্যদিকে যাদের আগ্রহ বা দক্ষতা রয়েছে সে ধরনের কর্মকর্তাদের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো উচিত।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার জন্য অর্থ নিয়ে আমরা কারো সাথে দরকষাকষি করতে চাই না। কিন্তু আমরা যখন দাতা সংস্থাগুলোর সাথে অর্থ নিয়ে আলোচনা করি তখন তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে আমরা কি করতে চাই। এক্ষেত্রে তিনি সঠিকভাবে প্রকল্প প্রনয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ নিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এই টাকা দিয়ে পরিবেশ মন্ত্রনালয় নিজে কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না। অন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে এ অর্থ দিয়ে দেয়া হয়। তারা নিজেদের মতো করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। কিন্তু এতদিন এসব প্রকল্প মনিটরিং এর ব্যবস্থা না থাকলেও গত কয়েকমাসে ৬-৭টি প্রকল্প মনিটরিং করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন রিপোর্ট দেখে শিহরিত হয়ে উঠেছি। তবে একেবারে যে কাজ হয়নি তা নয়।  তিনি বলেন, পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা এবং আমাদের জীবনমানের অনেক উন্নয়ন ঘটেছে। একসময় গ্রামের খালে ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো- একদিকে গোসল ও অন্যদিকে ওই খালের পানি খাওয়া এবং রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাওয়া হতো। এখন অবস্থা আগের মতো নেই। খালের পানিও না ফুটিয়ে কেউ খায় না। ট্যানারি মিল্পের কারনে নদী দূষন হচ্ছে এটা আমরা সবাই জানি। গুলশান বারিধারা লেক দূষন করছে ওখানকার অধিবাসীরা। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সেসব শিক্ষিত এবং ধর্নাঢ্য ব্যাক্তিদের সচেতন করার জন্য আমরা নানা কর্মসূচী পালন করছি। নানা কারনে এসব বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারি না। তবে আমি হতাশ হবার লোক নই। অগ্রাধিকার নির্ধারন করে আমরা কাজ করে যাবো।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সরাসরি এ কাজটি দেখভাল করছে। আমাদেরকে ড্রাইভিং ফোর্স হিসেবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ড. কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাটা বৈশ্বিক। এটাকে সেভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন,জলবায়ু চুক্তিতে দেশগুলোর দূষণ কমানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখন তা থেকে তারা সরে এসেছে। বাংলাদেশের ক্ষতি কমিয়ে আনতে হলে অথৃ এবং প্রযুক্তি দুটোই দরকার। এ লক্ষ্যে আমাদেরকে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা দূষন কমিয়ে আনতে না পারলে প্রচুর অর্থ এবং প্রযুক্তি দিয়েও অভিযোজন করা যাবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি রাজনীতিবিদদের মুল ভ্থমিকা রাকার আহবান জানান।
বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলো থেকে এ অর্থ আসার কথা। কারন তারা কার্বন নি;সরন বেশি করে। তিনি গ্রিন ক্লইমেট ফান্ড থেকে অর্থ আদায়ে বাংলাদেশকে জোর প্রচেষ্টা চালানোর আহবান জানান। দাতাদের আস্থা অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদের দক্ষতা দেখাতে হবে এবং বাস্তবায়নেও দক্ষতারও পরিচয় দিতে হবে।                                                                                                                                                                                                                                                                                     
রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শাহেদ চৌধুরী। এতে মুল প্রবন্ধ উস্থাপন করেন বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাষ্ট ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: দিদারুল আহসান, ড. মাহবুব আলী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের সভাপতি কাওসার রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মোতাহার হোসেন।