১৫০ কোটি টাকা আত্মসাত্

সময় চেয়ে আবেদন করলেন পারটেক্স চেয়ারম্যান

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:২৮
 
সোনালী ব্যাংক থেকে ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নোটিশ প্রাপ্ত পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম দুদকের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেছে।
 মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় এম এ হাসেমের পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করেন ওই প্রতিষ্ঠানের জিএম আনিছুর রহমান। এম এ হাসেম বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিত্সাধীন রয়েছেন জানিয়ে তার সুস্থ হওয়া পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রদান করা হয়।
নোটিশে তাদেরকে মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। এদিকে একই অভিযোগে ইতিমধ্যে সোনালী ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলামসহ ব্যাংকের ২০-২৫ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
গতকাল পারটেক্স গ্রুপের জিএম আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এম এ হাসেম চিকিত্সাধীন থাকায় মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে হাসেমের দুই ছেলে পারটেক্স সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও পরিচালক রুবেল আজিজের হাজিরের বিষয়ে তিনি জানান, দুদকের চিঠি তারা কেউ পায়নি।
দুদক সূত্র জানায়, চিনি আমদানির নামে এলসির বিপরীতে পারটেক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু এভিনিউ শাখা থেকে ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বিদেশ থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির নামে ২০১১ সালে সাত কোটি ৪২ লাখ টাকার এফডিআরের বিপরীতে (১৮০ দিন বিলম্বে পরিশোধের ভিত্তিতে) বঙ্গবন্ধু এভিনিউ শাখায় ১৫০ কোটি টাকার দুটি এলসি খোলে পারটেক্স সুগার মিলস লিমিটেড। এলসির বিপরীতে ৩০ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করলেও তা বিক্রি করে কোনো টাকা ব্যাংকে জমা করা হয়নি। এতে সৃষ্ট পেমেন্ট এগেইনস্ট ডকুমেন্ট (পিএডি) শ্রেণীভুক্ত করে এফডিআর সমন্বয় করার পরও পারটেক্স সুগার মিলসের কাছে সোনালী ব্যাংকের পাওনা দাঁড়ায় ১৩৬ কোটি টাকা।
সূত্র আরও জানায়, সোনালী ব্যাংকের একটি সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের উেকাচ নিয়ে মাত্র সাত কোটি ৪২ লাখ এফডিআরের বিপরীতে পারটেক্স গ্রুপকে ১৫০ কোটি টাকার এলসি খোলার সুযোগ করে দেয়। আগেই পারটেক্স গ্রুপের ২২ কোটি টাকা অনিয়মিত দায় ছিল। ঋণ অনাদায়ী অবস্থায় নতুন কোনো এলসি খোলা নিয়মবহির্ভূত। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সোনালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে গত বছর চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা বেরিয়ে এলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কমিশনে একটি চিঠি পাঠানো হয়।