পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার মাঝে দেশটির গত বারের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টিসহ (পিপিপি) বেশিরভাগ বিরোধীদল নওয়াজ শরিফ সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। মঙ্গলবার
পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশনে দলগুলো এ সমর্থন জানিয়েছে।
সরকারের প্রতি সমর্থন দিয়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা আইতাজ আহসান বলেছেন, ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরি নারী এবং শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কথিত বিপ্লব করতে চাইছেন। কিন্তু তাদের এ প্রচেষ্টা সফল হবে না। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এটা কি ধরনের বিপ্লব?’ তিনি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘বিরোধীদল আপনার সঙ্গে আছে।’
পাখতুনখোয়া মিল্লি আওয়ামী পার্টির নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই বলেন, ইমরান ও তাহিরুল কাদরি আন্দোলনের নামে যা করছেন তা নিতান্তই সন্ত্রাসবাদ। আজকের অধিবেশনে পিটিআই দলের বহিষ্কৃত সভাপতি জাভেদ হাশমিও যোগ দেন।
সংসদ অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান বলেছেন, আন্দোলনের নামে ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরি যা করছেন তা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ছাড়া কিছইু নয়। তিনি বলেন, কয়েক হাজার মানুষের কাছে দেশ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।
এর আগে, গতকাল পাকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দলের একাংশের নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, ইমরান ও কাদরির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা উচিত। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামি বলেছে- সংলাপের মাধ্যমে চলমান সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে এমকিউএম দলের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসানে ১৬টি দলকে নোটিশ দিয়েছে। এর মধ্যে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-এ-ইনসাফ(পিটিআই) এবং তাহিরুল কাদরির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক(পিএটি) দলও রয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে- রাজনৈতিকভাবে চলমান সমস্যার সমাধান করতে হবে।
অন্যদিকে, ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরির নামে এ পর্যন্ত নয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ গত কয়েকদিন ধরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে। বিরোধী নেতা এবং সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান এবং প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা তাহিরুল কাদরি এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত কয়েকদিনের বিক্ষোভে অন্তত তিন জন নিহত এবং কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছে।
