ইউরো এলাকা অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে চাইছে। কিন্তু শুরু থেকেই তার পথ নিয়ে ইউরোপীয় নেতারা দুই শিবিরে বিভক্ত৷ একদিকে ব্যয় সংকোচ ও সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতির ভীতকে মজবুত করার ফর্মুলা। অন্যদিকে অবিলম্বে স্টিমুলাসের মাধ্যমে অর্থনীতিকে দ্রুত চাঙ্গা করে বিপদ কাটানোর দাবি। ব্যয় সংকোচ ও সংস্কারের ফলে বিপর্যস্ত দেশগুলি সত্যি সংকট কাটিয়ে আবার অর্থনীতির মূল স্রোতে ফিরতে পারছে বটে, কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এসব সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ৬ই অক্টোবর ইউরোপীয় নেতাদের এক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এদিকে স্পেনে বেকারত্বের হার আবার কিছুটা বেড়ে গেছে৷ একমাত্র গ্রিসেই বেকারদের সংখ্যা তার চেয়েও বেশি৷ গ্রিস তার অর্থনীতির উন্নতির জন্য আইএমএফ ও ইইউ-র সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে৷ তবে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা ফ্রান্স ও ইটালিকে নিয়ে। ইইউ-র দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দুর্বলতা কিছুতেই কাটছে না।
এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে একমাত্র ভরসা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ইসিবি। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, গত পাঁচ বছর ধরে ইসিবি বার বার সঠিক মন্তব্য করে বা পদক্ষেপ নিয়ে তা সামাল দিয়ে চলেছে। চলতি সপ্তাহেই ইসিবি এক বৈঠকে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নতুন করে আরও বন্ড কেনার মতো কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু ইসিবি-ও এবার বলছে, যে তাদের একার পক্ষে অর্থনীতি বাঁচানো সম্ভব নয়। অর্থাৎ রাজনৈতিক স্তরেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইসিবি প্রধান মারিও দ্রাগির পরামর্শ হলো, বাজেট ঘাটতি সংক্রান্ত ইইউ-র নিয়মের কাঠামোর মধ্যে থেকেই ব্যয় সংকোচ কমিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা হোক৷ ইউরোপীয় কমিশনের ভবিষ্যৎ প্রধান জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার ৩০ হাজার কোটি ইউরো মূল্যের এক তহবিলের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে।
আগামী ৬ই অক্টোবর ইউরোপীয় শীর্ষ নেতারা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে এক সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন৷ সেখানে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের উপর চাপ বাড়বে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ জার্মানির নিজস্ব রেকর্ড বাজেট সারপ্লাস অনেকের ঈর্ষার কারণ৷
জানা গেছে, ইউরো-র বিনিময় মূল্য কমে চলেছে, যা ইউরো এলাকার রপ্তানিকারকদের জন্য সুখবর বয়ে আনছে৷
(রয়টার্স, এএফপি)
