দেশে দানবীয় শক্তি তাই তারেক ফিরতে পারছেন না: ফখরুল

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০০:১৩

তারেক রহমানের ‘সপ্তম কারামুক্তি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তারেক রহমান এখনো মুক্ত নন, তিনি নির্বাসিত। দেশে দানবীয় শক্তি থাকার কারণে তিনি আসতে পারছেন না। তাঁকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’ রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আজ বুধবার এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।


মুক্তিযুদ্ধ, দেশের ইতিহাস নিয়ে সত্যি কথাগুলো তারেক রহমান তুলে ধরছেন বলে আওয়ামী লীগের নেতা ও তাঁদের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা অযৌক্তিকভাবে তারেক রহমানের সমালোচনা করছেন বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। ‘তাদের কাছে তারেক রহমানের বক্তব্যের কোনো জবাব নেই’ বলে ফখরুল দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে, যে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে ১৬ মাস কারাগারে আটক রাখা হয়েছে, একই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারেক রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। পরে তাঁকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।’
সরকারকে ‘বেশরম ও বেহায়া’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো ৬৫ বছরের পুরোনো রাজনৈতিক দল জনগণকে প্রতারণা করে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে। লজ্জা থাকলে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করত না।’
ছোটোখাটো ভেদাভেদ শুধরে ‘অবৈধ সরকারের’ পতন ঘটাতে দলের নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আপনারা দলকে সুসংগঠিত করুন। এই অবৈধ সরকার সোজা কথা শুনবে না। আগেই বলেছি, আঙুল আমাদের বাঁকা করতেই হবে।’
ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই সশরীরে আদালতে হাজির হয়েছেন। কিন্তু মানুষ এই মিথ্যা মামলা মেনে নেয়নি। সেজন্য রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদ করেছে। সরকারের পেটোয়া বাহিনী তাদের ওপর অন্যায়ভাবে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে।’ এ ঘটনায় পুলিশকে দায়ী করে এর নিন্দা জানান মির্জা ফখরুল । বগুড়ায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশ অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। একই সঙ্গে আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করেন। দুই ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তিও দাবি করেন তিনি। আজকের এ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে থেকে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বিদ্যুত্ ছিল না। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ইচ্ছে করেই চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। অবশ্য তার বক্তব্য শুরুর কয়েক মিনিট পরই বিদ্যুৎ চলে আসে।