তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের পাওনার আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে একটি গ্রুপ মাঠ গরমের অপচেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক শাজাহান খান। তিনি বলেন, তোবা সংকট নিয়ে গার্মেন্টসে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, কিন্তু তা মাঠে মারা গেছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানায় শ্রমিকদের আইনানুগ সব পাওনা পরিশোধের দাবিতে এই শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এ সময় শাজাহান খান অভিযোগ করেন, তোবা গ্রুপের মালিক যে বীমা করেছিল তা মেরে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে সেখান থেকে টাকা তুলে তোবা গার্মেন্টস খুলে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা আবার তোবা গ্রুপ চালু দেখতে চাই। শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে কারা তোবার মালিককে জেল থেকে বের করে নিয়ে আসলো তা খতিয়ে দেখা দরকার। গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু শ্রমিকদের আন্দোলনের মাধ্যমে অনেকে হটকারীতা করতে চাইছে। অনেকে সরকারের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলনকে ব্যবহার করতে চাইছে। শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করছে। দেশের পোশাক শিল্পে স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গঠনে সুস্থ ধারার ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও আলাপ-আলোচনার কোন বিকল্প নেই।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা বদরুজ্জামান নিজাম, শ্রমিক নেতা জেড, এম কামরুল আনাম, আবুল হোসাইন, নাজমা আক্তার প্রমূখ। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল পল্টন হয়ে পুনরায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
শাজাহান খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দুই মেয়াদের শাসনামলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনার শাসনামলে গার্মেন্টস সেক্টরে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, কিন্তু কোন শ্রমিক মারা যায়নি। বেগম জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে সাড়ে ৯০০ টাকা গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন দিয়েছেন অথচ শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসেই ১৫ শ টাকা বেতন করেছেন। এটা রাজনীতি নয়, যেটা সত্যি তাই বলা হয়েছে।
ইঅ/চৌফে/শ২৯৩
