মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট: ১৯৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের অপেক্ষা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২২:০২
 
 
গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে বিদায়ের অপেক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের ১৯৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতংকে রয়েছেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট গঠনের সময় এই প্রতিষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরিতে নিয়োগ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়োগ দেয়া হয়। কল্যাণ ট্রাষ্টের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান তাবানী বেভারেজ ২০০৮ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে  এখন পর্যন্ত এই ট্রাস্টের অর্থ সংঙ্কট এখনও কাটেনি। এরই মধ্যে গত ৫ আগষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সভায় এই প্রতিষ্ঠানের ১৯৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে বিদায় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চাকরিতে বহালের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ভুক্তভোগী এ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা কোকা কোলা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আজাদ বাবুল অভিযোগ করেন, কোকা-কোলা কোম্পানি মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টের তাবানী বেভারেজকে কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালের ৩০ জুন থেকে বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যাওয়া তাবানী বেভারেজ পুনরায় চালুর জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেন। কিন্তু ট্রাস্ট ব্যবস্থাপনা পরিষদের অবহেলা আর অদক্ষতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি চালু হয়নি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৩০ কোটি টাকা ফেরত চলে যায়।
ঢাকা কোকা কোলা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম এইচ আলম বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়-দেনা নেই। আমেরিকার আটলান্টার কোকা-কোলা কোম্পানি থেকে তাবানী বেভারেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৬ মিলিয়ন ডলার ( ১২৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা) পেয়ে এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই টাকা তাবানী বেভারেজের পক্ষে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা হয়েছে। ব্যাংকের এফডিআর থেকে মাসে ১ কোটি টাকা ১৪ লাখ টাকা লাভ কল্যাণ ট্রাষ্ট পেয়ে থাকে। এই ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছিল তাবানী বেভারেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। বর্তমানে তাবানী বেভারেজের এই ১৯৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মুত্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়সহ ট্রাষ্টের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুলিস্তান শপিং সেন্টারে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট, পূর্ণিমা ফিলিং স্টেশন, রাজধানী সুপার মার্কেট, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে তাবানী বেভারেজ, চিড়িয়াখান রোডে তাবানী বেভারেজ ভবন ও বগুড়ায় তাবানী ডিপোতে কর্মরত। ১৯৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে বিদায় দেয়া হলে ঐ স্থানে আবার নতুন করে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। এ অবস্থায় কোকা কোলা থেকে পাওয়া ক্ষতিপূরুণের টাকা ব্যাংকে রেখে যে লাভ পাওয়া যাচ্ছে, ঐ টাকা দিয়ে ১৯৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন দিয়ে আরো টাকা কল্যান ট্রাষ্টের নামে থেকে যাবে। 
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে চালু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন শূন্য পদের বিপরীতে ১৯৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদায়ন ও পুনর্বিন্যাস করার জন্য ভূক্তভোগীরা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেছেন।
 
ইঅ/চৌফে/শ৩৮৮