২০১৩ সাল জুড়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বেশিরভাগ উদ্যেক্তাই বড় রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান মুনাফা করতে পারেনি। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোও এ সময়ে বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের উপর। ২০১৩ সালের অর্থবছরের উপর বেশির ভাগ কোম্পানিই শেয়ারহোল্ডারদেরকে ভালো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এ জন্য ২০১৩ সালে ডিভিডেন্ড ইল্ড কমে গেছে। যেহেতু ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম খুব একটা বাড়েনি। উপরন্তু লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা আগের বছরের তুলনায় কম। তাই ডিভিডেন্ড ইল্ড আগের বছরের তুলনায় কমেছে।
জানা গেছে, শেয়ার দরের বিপরীতে ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রদত্ত ডিভিডেন্ডের (ডিভিডেন্ড ইল্ড) হার গড়ে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। যা আগের বছরে ছিল ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শেয়ারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিভিডেন্ড ইল্ড কমেনি। উপরন্তু কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ দেয়ার হার কমে যাওয়াতেই ডিভিডেন্ড ইল্ড কমে গেছে।
তথ্যে দেখা গেছে, সেবা ও আবাসন খাতের বিনিয়োগকারীরা শেয়ার দরের তুলনায় সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক শূন্য দুই শতাংশ হারে লভ্যাংশ পেয়েছেন। এ ছাড়া চামড়া ও সিরামিক খাতে শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, বিবিধ খাতে শূন্য দশমিক শূন্য চার, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ হারে লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এই খাতগুলোতে বিনিয়োগ করে সবচেয়ে কম হারে লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এদিকে ২০১৩ সালে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ২৭ শতাংশ হারে টেলিকমিউনিকেশন খাত থেকে ডিভিডেন্ড ইল্ড পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাত থেকে শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাত থেকে শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ হারে পেয়েছেন।
ডিএসই কর্মকর্তারা বলছেন, শেয়ারের বাজার মূল্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাই লভ্যাংশের হার প্রকৃত রিটার্ন নির্দেশ করে না। ডিভিডেন্ড ইল্ডই শেয়ারের সঠিক রিটার্ন। বাজার মূল্যের ভিত্তিতে প্রাপ্য লভ্যাংশ বিনিয়োগের কত শতাংশ তা-ই হচ্ছে ডিভিডেন্ড ইল্ড। ঘোষিত লভ্যাংশকে ১০০ দিয়ে গুণ করে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের বাজার মূল্য দিয়ে ভাগ করলে ডিভিডেন্ড ইল্ড পাওয়া যায়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে তেমন কোনো উত্থান ছিল না। কিন্তু কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ার কারণেই ডিভিডেন্ড ইল্ড কমে গেছে। এ অবস্থায় সামনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে কোম্পানিগুলো ভালো আয় করতে পারলে সামনে লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে বাজারের ডিভিডেন্ড ইল্ডও বাড়তে পারে। তবে ডিভিডেন্ড ইল্ড যতো ভালো হবে বিনিয়োগকারীরাও বাজারে ততো বেশি বিনিয়োগে আসবেন। তাই বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য ডিভিডেন্ড ইল্ড বাড়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এজন্য কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা ভালো হওয়া উচিত। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ডিভিডেন্ড ইল্ড ভালো কিনা তা লক্ষ্য করেন। ডিভিডেন্ড ইল্ড যতো বেশি হয় তত বিনিয়োগকারীরাও বাজারের দিকে বিনিয়োগমুখী হন।
ইঅ/চৌফে/শ৩৯৫
