জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন লিখিত বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে সংগঠনটি কমিশনকে ক্ষমতা দিয়ে ‘সত্যিকার বাঘে’ রূপান্তরেরও দাবি জানিয়েছে।
কেমন হলো জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন? এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য আরও বলা হয়, জাতীয় নদী রক্ষায় যে কমিশন হয়েছে, সেটি দুর্বল, নির্বাহী ক্ষমতাহীন ও সরকারের জন্য কেবল পরামর্শকমূলক প্রতিষ্ঠান হয়েছে। এতে প্রকৃত অর্থে নদী রক্ষা হবে না। সার্বিক কাজের জন্য কমিশনকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধন করতে হবে। কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে সাত দফা দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলন গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নৌ-মন্ত্রী বলেছেন নদী দখলকারীরা এ যুগের রাজাকার। যদি তা হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের দাবি হলো, একাত্তরের রাজাকারদের, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে যেভাবে সরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে, সেভাবে নদী দখলকারীদের বিচারের জন্যও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হোক। নদী দখলকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করে আইন প্রণয়ন করা হোক। সাংবাদিক সম্মেলনে বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, মিহির বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নদী দখল রোধে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ রিট করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ের আলোকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন-২০১২ প্রণয়ন করা হয়। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কমিশন কার্যালয় উদ্বোধন করে এর কার্যক্রম শুরু করে।
ইঅ/চৌফে/শ২২৭
