রপ্তানি আয়ে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরছে না। গত আগস্ট মাসেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ২৬১ কোটি ৬১ লাখ মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ২১৫কোটি ৯৫ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের দুই মাসের হিসাবে (জুলাই ও আগস্ট) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয়ে ঘাটতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। অবশ্য এই দুই মাসে রপ্তানি আয় পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২ শতাংশ। আর গেল আগস্টে বেড়েছে সোয়া সাত শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে রপ্তানির এই চিত্র দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত গতি না আসায় সার্বিক রপ্তানিতে এর প্রভাব পড়ছে। ইপিবির দেয়া তথ্যে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিটওয়্যার ও ওভেন রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। আলোচ্য সময়ে ২২৫ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে নীটওয়্যার পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২২০ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।
অন্যদিকে ওভেন পণ্যের ক্ষেত্রে ২৩৩ কোটি ২৭ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ২০২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অর্থাত্ আলোচ্য সময়ে নীটওয়্যার ও ওভেন রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে যথাক্রমে ২ শতাংশ ও ১৩ শতাংশ হারে। জুলাই ও আগস্টে ওভেন পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। যদিও আলোচ্য সময়ে নীটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।
অন্যদিকে ওভেন পণ্যের ক্ষেত্রে ২৩৩ কোটি ২৭ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ২০২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অর্থাত্ আলোচ্য সময়ে নীটওয়্যার ও ওভেন রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে যথাক্রমে ২ শতাংশ ও ১৩ শতাংশ হারে। জুলাই ও আগস্টে ওভেন পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। যদিও আলোচ্য সময়ে নীটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।
গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত গতি না ফেরার কারণ তুলে ধরে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ইত্তেফাককে বলেন, অনেক কারখানায়ই কাজ কম। তার নিজের কারখানায়ও আগের তুলনায় অর্ডার কমে গেছে। অর্ডার কমে যাওয়ায় অনেক ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নানামুখী কারণে রপ্তানিকারকদের ব্যয় গড়ে ১৩ শতাংশ বাড়লেও বায়াররা উল্টো দাম কমিয়ে দিচ্ছে। আগামী দিনগুলো রপ্তানিকারকদের জন্য আরো কঠিন হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ ৩২ ধরনের পণ্য রপ্তানি করে থাকে। এর মধ্যে এককভাবে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি থেকে আসে প্রায় ৮১ শতাংশ আয়।
গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রপ্তানিখাতে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ১৮ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের পণ্য। সাবির্ক বিবেচনায় চলতি ০১৪-১৫ অর্থবছরে যথেষ্ট সাবধানি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই সময়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৩ হাজার ৩২০ কোটি ডলার ধরা হয়েছে। বছর শেষ নাগাদ এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ইপিবি। তবে রপ্তানিকারকরা বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে বলছেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করাও কঠিন হবে।
গত দুই মাসে মাসে প্রায় সব পণ্যই রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। একই সময়ে ওভেনসহ অনেক পণ্যের রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। এই তালিকায় রয়েছে পাট ও পাটজাত পন্য, বিশেষায়িত বস্ত্র, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ও আসবাবপত্র ইত্যাদি।
অন্যদিকে আলোচ্য সময়ে নীটওয়্যার ছাড়াও রপ্তানি বেড়েছে হিমায়িত খাদ্য, কৃষিজাত পণ্য, কেমিক্যাল, প্লাস্টিক পন্য, রাবার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কাঠ ও কাঠজাতীয় পণ্য, বাইসাইকেল ও সমুদ্রগামী জাহাজ রপ্তানি।
