মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক এ কে খন্দকার বীরউত্তম লিখিত ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বইটি বাজেয়াপ্ত এবং বইয়ের লেখক-প্রকাশককে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
আজ রবিবার সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান বীরবিক্রম এবং মহাসচিব (প্রশাসন) এমদাদ হোসেন মতিন এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ কে খন্দকারের ‘বহুল বিতর্কিত বইটি’ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতিতে লিপ্ত দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের হাতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণটি ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য। যা সারা বিশ্বে সংরক্ষিত আছে। বইটিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রাণ পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সম্পর্কেও যে তথ্য উত্থাপন করেছেন, তা বাস্তবতাবিবর্জিত। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য আমাদের হতবাক করেছে।
যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, একে খন্দকার একজন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা। রাজনীতি সম্পর্কে তার ধারণা থাকার কথা নয়। ...একাত্তরের সাতই মার্চের জনসমুদ্রের রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত নির্দেশনা করে তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ জয় বাংলা বলে শেষ করেন। তিনি জয় পাকিস্তান বলেননি।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, একে খন্দকার তার বইতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুক্তিযুদ্ধে জাতির গৌরবোজ্জ্বল সেই ঘটনাবলির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সফল রাজনৈতিক নেতৃত্বের (বঙ্গবন্ধুর) যোগ্যতা ও দুরদর্শিতা সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলেছেন, যা সমগ্র জাতিকে মর্মাহত করেছে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যেকোন ব্যক্তি ও ইতিহাসজ্ঞানসম্পন্ন দেশবাসীর কাছে তার এ সব বক্তব্য অনাকাঙ্খিত ও অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয়।
ইঅ/চৌফে/শ৩৬৯
