আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ

আড়াই কোটি লোক এখনও নিরক্ষর

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১০:৫৯

নিজামুল হক
২০১৪ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো সক্ষম (১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী)  আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ এখনও নিরক্ষর রয়ে গেছে। এ তথ্য খোদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। আর কবে নাগাদ দেশ নিরক্ষরমুক্ত হবে এ বিষয়েও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়টি স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না। এছাড়া সাক্ষরতার হার নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। এতে প্রকৃত নিরক্ষর সংখ্যা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

পঞ্চম আদমশুমারি অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন। সাক্ষরতার হার ৬৫ শতাংশ হলে প্রকৃতপক্ষে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮১ হাজার ৩০৫ জন। এমন বাস্তবতার মধ্যেই আজ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এ উপলক্ষে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৫৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। এরপর আর সাক্ষরতা নিয়ে কোন জরিপ হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করছে। কিন্তু সে অনুযায়ী সাক্ষরতার হার বাড়ছে না। তবে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেছেন, ‘দেশে এখন সাক্ষরতার হার ৬৫ শতাংশ। সেই অনুযায়ী নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা আড়াই কোটি।’ মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার হোসেন বলেন, নাম লিখতে পারলেই স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন- আমরা এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসেছি। দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে তার বিশ্বাস।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে সাক্ষরতা বিস্তার, অব্যাহত শিক্ষার আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রসার ঘটানোর মাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন ২০১৪’ এর খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। অচিরেই এটি সংসদে উত্থাপন করা হবে। এছাড়া ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষানীতি ২০০৬’ ও  ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ এ সবার জন্য শিক্ষা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তথা দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি করা হয়েছে। নিরক্ষরমুক্ত করার জন্য ৬৪ জেলায় ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর লোককে সাক্ষরতা প্রদানসহ দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

সাক্ষরতার হার নিয়ে বিভ্রান্তি:সাক্ষরতার হার নিয়ে বিভ্রান্তি থাকায় দেশে প্রকৃত অর্থে নিরক্ষর লোক কত তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্যে রয়েছে অনেক গরমিল। কোন তথ্যটি সঠিক তা কেউ বলতে পারছে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, দেশে সাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশ। গত বছর ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন মন্ত্রী। আবার গতকালের সম্মেলনে বলা হয়েছে ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে সাক্ষরতা নিয়ে দেশজুড়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) মোর্চা ‘গণসাক্ষরতা অভিযানে’র তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাক্ষরতার হার ৫৮ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ:‘টেকসই উন্নয়নের মূলকথা সাক্ষরতা আর দক্ষতা’- এ স্লোগান নিয়ে আজ সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ৩৬টি দেশের প্রতিনিধি। সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী  জানান, শিক্ষা ও সাক্ষরতার মাধ্যমে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অর্জিত কৃতিত্বের বিষয়গুলো এই সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে  ‘গার্লস অ্যান্ড উইমেন লিটারেসি অ্যান্ড এডুকেশন: ফাউন্ডেশন ফর সাসটেইন্যাবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৪টি দেশের প্রতিনিধির হাতে ‘ইউনেস্কো লিটারেসি অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল হক খান ও জ্ঞান্দ্রে কুমার বিশ্বাস, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ  উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দিবসটি পালন করে আসছে